শিলচর প্রেস ক্লাবে পীযূষকান্তি দাসের ষষ্ঠ প্রয়াণবার্ষিকী পালন

Spread the news

সাংবাদিকতা পুরস্কারে সম্মানিত বিধানচন্দ্র নাথ

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ মে : শিলচর প্রেস ক্লাবে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমাজচিন্তক পীযূষকান্তি দাসের ষষ্ঠ প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে “নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি : জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা” শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি এবং তাঁদের কথার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য বজায় রাখা উচিত। আলোচনায় অংশ নিয়ে কবি-সাংবাদিক অতীন দাশ বলেন, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা প্রত্যাশিত হলেও বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, একাংশ জনপ্রতিনিধির জীবনযাত্রা রাতারাতি বদলে যায় এবং অনেকেই বাঁকা পথে সম্পদ আহরণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিধানসভা ও সংসদ—সব স্তরেই জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।

স্মৃতিচারণ পর্বে পীযূষকান্তি দাসের কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বরাক নাগরিক সংসদ এবং ‘কেআরসি ফাউন্ডেশন মিডিয়া ওয়েলফেয়ার গ্রুপ’-এর পক্ষ থেকে “পীযূষকান্তি দাস স্মারক সাংবাদিকতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় বিশিষ্ট সাংবাদিক বিধানচন্দ্র নাথকে। উত্তরীয়, পুষ্পস্তবক, সনদপত্র, সম্মাননা স্মারক, অর্থ ও কলম তুলে দিয়ে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। পুরস্কার গ্রহণ করে বিধানচন্দ্র নাথ বলেন, এই সম্মান আগামী দিনে তাঁর সাংবাদিকতার পথচলায় নতুন প্রেরণা জোগাবে।

অতীন দাশ আরও বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই পীযূষকান্তি দাস সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পাশাপাশি সমাজের নানা সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বরাক উপত্যকার বিভিন্ন গণআন্দোলন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্থংকর চৌধুরী পরিবেশ আন্দোলনে পীযূষকান্তি দাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বরাকড্যাম বিরোধী আন্দোলনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে তুলতে পীযূষকান্তি দাস অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতেও তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মী শরিফ উজ-জামান লস্কর বলেন, পীযূষকান্তি দাস ছিলেন অত্যন্ত নির্ভীক সাংবাদিক এবং নীতির প্রশ্নে কখনও আপস করেননি। তাঁর অকাল প্রয়াণ সংবাদমাধ্যম ও সমাজজীবনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কবি-সাংবাদিক স্মৃতি পাল নাথ বলেন, পীযূষকান্তি দাসের লেখনী ছিল অত্যন্ত ক্ষুরধার ও বস্তুনিষ্ঠ। সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়েই তিনি আজীবন কাজ করে গিয়েছেন।

পীযূষকান্তি দাসের সহধর্মিণী, শিক্ষিকা ও লেখিকা শান্তশ্রী সোম আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, প্রবল আত্মবিশ্বাস ও অদম্য মনোবলের জোরেই জীবনের নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে গিয়ে বহু ত্যাগ স্বীকার করলেও কখনও আপস করেননি।

শিলচর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শংকর দে বলেন, সাংবাদিকতার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনেও পীযূষকান্তি দাসের ভূমিকা ছিল ব্যতিক্রমী। তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জনগণকেও আরও সচেতন হতে হবে। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন সাংবাদিক মেঘনাথ কর ও ইয়াহিয়া লস্কর জাকির। এছাড়া মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী শান্তিকুমার ভট্টাচার্য, অনামিকা পাল, পাপলু দাস, স্মৃতি পাল নাথসহ অন্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *