২৬ মে : রাজস্থানের কোটা সরকারি হাসপাতালে অক্সিটোসিন ইনজেকশন প্রয়োগের পর অন্তত পাঁচ অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত এই ইনজেকশনটি নকল হতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় জানা গিয়েছে, ইনজেকশনটিতে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান অনুপস্থিত ছিল বলেই দাবি।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রসবের ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আক্রান্ত মহিলাদের রক্তচাপ ও প্লেটলেটের মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। পাশাপাশি কিডনি বিকলের উপসর্গও দেখা দেয়। এরপরই পরপর পাঁচ মহিলার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর রাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ গোটা রাজস্থানে ওই ইনজেকশনের বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্য কোনও কারণ জড়িত থাকতে পারে বলেও তারা জানিয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে রাজস্থান সরকার। প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গিয়েছে, জ্বর, অ্যালার্জি, পেটের সংক্রমণ ও ব্যথা উপশমে ব্যবহৃত একাধিক ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিকও নিম্নমানের বা নকল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার তৈরি এই ওষুধগুলি বাজারে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ।



