বরাক তরঙ্গ, ১০ জুলাই : শুক্রবার অসম বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী জয়ন্ত মল্লবরুয়া ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেন। শাসকদল এই বাজেটকে জনকল্যাণমুখী বলে দাবি করলেও বিরোধী দলগুলি বাজেটে নতুনত্বের অভাব এবং ঋণনির্ভর অর্থনীতির অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করে।
বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিরোধী দলনেতা ওয়াজেদ আলি চৌধুরী বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ গতানুগতিক এবং ঘাটতি বাজেট। তাঁর অভিযোগ, বাজেটে নতুন কোনও পরিকল্পনা নেই; আগের ঘোষিত প্রকল্পগুলিকেই পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। বিধায়ক তহবিল বৃদ্ধির বিষয়টিও আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাইজর দলের সভাপতি তথা বিধায়ক অখিল গগৈ বাজেটকে “নতুন বোতলে পুরনো মদ” বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, ২.৮৫ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ অর্থ ঋণ নিয়ে জোগাড় করা হবে, ফলে রাজ্যের ঋণের বোঝা আরও বাড়বে। তিনি বলেন, রাজ্যের ঋণের পরিমাণ এবং বাজেটের আকার প্রায় সমান হয়ে যাবে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অখিল গগৈ আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ২০১৬-১৭ সালের বাজেটের একাধিক প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। তাঁর মতে, বাজেটে মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলির উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু রাজ্য সরকারের নিজস্ব বড় কোনও উন্নয়ন প্রকল্প নেই। কাজিরাঙা এলিভেটেড করিডর, গুয়াহাটি রিং রোডের মতো প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র অর্থ দেবে, তাই সেগুলিকে রাজ্যের বাজেটের সাফল্য হিসেবে দেখানো ঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বাজেটে কেবল ডিবিটি (ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার) এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা রয়েছে, কিন্তু উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য কোনও কার্যকর পরিকল্পনা নেই। তাঁর ভাষায়, গত সাত বছরে দেখা বাজেটগুলির মধ্যে এটিই “সবচেয়ে দুর্বল বাজেট”।
অন্যদিকে, কংগ্রেস বিধায়ক জুবেইর আনাম বলেন, তিনি এখনও বাজেট পুরোপুরি পর্যালোচনা করেননি। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁর মনে হয়েছে, বিজেপি যে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাজেটে দেখা যায়নি।
এছাড়া, বাজেটে জুবিন ক্ষেত্র (Zubin Sector) নিয়ে কোনও উল্লেখ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, যদি সত্যিই তা বাদ পড়ে থাকে, তবে বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপন করা হবে।



