বরাক তরঙ্গ, ২৯ নভেম্বর : ৬ জনগোষ্ঠীকে জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল (বিটিসি) এলাকা। শনিবার অসম বিধানসভায় এই প্রসঙ্গে মন্ত্রিগোষ্ঠীর প্রতিবেদন দাখিলের আগেই বড়োল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করে বলে জানা যায়। সর্বশেষ পাওয়া খবরে, এই প্রতিবাদ ক্রমে উত্তপ্ত রূপ নেয়। প্রতিবাদ চলাকালীন একদল আন্দোলনকারী বিটিসি সচিবালয়ে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায়ই বিধানসভায় ৬ জনগোষ্ঠীকে উপজাতি তালিকাভুক্ত করার সম্পর্কিত মন্ত্রিগোষ্ঠীর প্রতিবেদন দাখিল করেন মন্ত্রী রণোজ পেগু। প্রতিবেদনটি কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট পাঠানো হবে। গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ এই প্রতিবেদনের অনুমোদন দিয়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সংগঠিত হওয়া ছাত্রছাত্রীরা ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিটিসি সচিবালয়ের দিকে মিছিল করে এগিয়ে আসে। সচিবালয়ের সামনে তারা ৬ জনগোষ্ঠীর জনজাতিকরণের বিরোধিতা করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় কিছু বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবুও এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই বলে জানা গেছে।
গত বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভা অসমের ৬ জনগোষ্ঠী—তাই আহোম, চুতিয়া, মরান, মটক, কোচ-রাজবংশী এবং চা-জনজাতিকে তফসিলি উপজাতি (এসটি) মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশসহ মন্ত্রিগোষ্ঠীর প্রতিবেদনে অনুমোদন দেয়। এর প্রতিবাদে বড়োল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসে আন্দোলন করে এবং তৃতীয় সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা বর্জন করে।
একইভাবে বৃহস্পতিবার কোকরাঝাড় শহরে অল বড়ো স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এবিএসইউ) সহ বেশ কয়েকটি জনজাতীয় সংগঠন প্রতিবাদ মিছিল বের করে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, ৬ জনগোষ্ঠীকে এসটি মর্যাদা দেওয়া হলে বর্তমান জনজাতি গোষ্ঠীগুলোর সাংবিধানিক অধিকার ও সুরক্ষা কমে যাবে। এর ফলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগেও প্রভাব পড়তে পারে।
শনিবার দিনের উত্তপ্ত আন্দোলনের পর এবিএসইউ সভাপতি দীপেন বড়ো শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “প্রতিবাদ অহিংস, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ হওয়া জরুরি। সকলকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছি।”
তিনি আরও লেখেন, “কোকরাঝাড়ে নিজ উদ্যোগে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে বিটিসি সচিবালয়ে প্রবেশ করা ছাত্রছাত্রীরা অনুগ্রহ করে নিজেদের বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে আসুন। কারণ সচিবালয় আমাদের শাসনের মন্দির এবং গণতন্ত্রের গর্ব। দীর্ঘ সংগ্রাম ও শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি।”



