বরাক তরঙ্গ, ১৮ মে : বরাক উপত্যকায় হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের দাবিতে জোরালো আওয়াজ তুলল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন। গৌহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়ে তাঁরা জানান, শুধুমাত্র রাজধানী শহরে যাতায়াত ও অবস্থানের ব্যয় বহন করতে না পারার কারণে অনেকে নিজেদের আইনগত অধিকার ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বেঁচে থাকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার এবং ৩৯(ক) অনুচ্ছেদে সমান ন্যায়বিচার ও বিনামূল্যে আইনগত সহায়তার যে কথা বলা হয়েছে, এর উল্লেখ করে বরাক বঙ্গের প্রেরিত স্মারকপত্রে বলা হয়েছে, ভৌগলিক দূরত্বের দরুন এইসব অধিকার থেকে বরাক উপত্যকা এবং ডিমা হাসাওর জনগণ বঞ্চিত।
তাঁরা জানান, গুয়াহাটি পৌঁছাতে দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্লান্তিকর যাত্রা কেবলমাত্র একটি যাতায়াতজনিত অসুবিধা নয়, বরং ন্যায়বিচার লাভের পথেও এক বড় প্রতিবন্ধকতা। শারীরিক এবং আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষ তাই হাই কোর্টে গিয়ে ন্যায় বিচার চাইতেই পারছেন না।
তাই বরাক উপত্যকার স্বতন্ত্র ভৌগোলিক পরিচয়ের পরিপ্রেক্ষিতে একটি স্থায়ী বেঞ্চ কেবল আঞ্চলিক দাবি নয়, বরং “দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি” নিশ্চিত করা এবং প্রধান বেঞ্চের উপর চাপ কমানোর জন্যও একান্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বরাক বঙ্গের কেন্দ্রীয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. পরিতোষ চন্দ্র দত্ত। তিনি বলেন, গৌহাটি হাইকোর্টের অন্তর্গত বহু অঞ্চল তাদের ভৌগোলিক প্রয়োজনের স্বীকৃতিস্বরূপ বেঞ্চ বা পৃথক উচ্চ আদালত লাভ করলেও বিচার ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের এই দৃষ্টিভঙ্গি বরাক উপত্যকার ক্ষেত্রে আজও প্রতিফলিত হয়নি। অথচ এই উপত্যকার যে কোনও যুক্তিসঙ্গত স্থানে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন করা হলে কেবল ভৌগোলিক দূরত্বই কমবে না, বরং সাধারণ মানুষের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।



