বরাক তরঙ্গ, ১৫ মে : ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলায় অনুষ্ঠিত জেলা ভিত্তিক সবাহী মক্তব মেধা সন্ধানী পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে অসাধারণ কৃতিত্বের নজির গড়েছে প্রত্যন্ত গ্রামের মেধাবী ছাত্রী মামণি আক্তার। তার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আত্মীয়স্বজন ও গোটা এলাকাজুড়ে।
সম্প্রতি সিপাহীজলা জেলার বিভিন্ন সবাহী মক্তবের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আয়োজিত হয় মেধা অন্বেষণ পরীক্ষা। এতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৪০ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে। কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেও জম্পুইজলা মহকুমার দোহারাম কালা মিয়া পাড়ার প্রত্যন্ত এলাকার দারুল কুরআন দোহারাম সবাহী মক্তবের জমাতে ছুওমের ছাত্রী মামণি আক্তার মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। মামণি আক্তারের এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত তার বাবা আতিকুল ইসলাম ও মা মলেকা বেগম। মক্তবের শিক্ষার্থী হিসেবে তার এই অর্জনে গর্বিত পুরো এলাকাবাসীও। ছোট্ট গ্রামের এক মেধাবী ছাত্রীর এমন সাফল্য নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার দোহারাম মসজিদ কমিটির উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থী মামণি আক্তারকে উষ্ণ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে ট্রফি, সম্মাননা সনদ ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দিয়ে সম্মানিত করেন অতিথিরা। একই সঙ্গে ত্রিপুরা রাজ্যিক এমারতে শরয়িয়াহ্ ও নদওয়াতুত্ তামিরের সম্পাদক মওলানা মুহাম্মাদ জাকির হোসেন আলজলিলি সহ বিশিষ্ট গুণিজনদেরও সংবর্ধনা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাওলানা জাকির হোসাইন আলজলিলী বলেন, সবাহী মক্তব শিক্ষা মুসলিম সমাজের ধর্মীয় প্রাথমিক শিক্ষার মূলভিত্তি। এই শিক্ষা প্রতিটি মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায়ও ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। সুশিক্ষা যুব সমাজের মধ্যে সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে। মামণি আক্তারের এই সাফল্যের পেছনে তার বাবা-মা, মসজিদ কমিটি ও শিক্ষকদের অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দোহারাম মসজিদের ইমাম মওলানা উবায়দুল্লাহ, মসজিদ কমিটির সভাপতি সজল মিঞা, হানিফ মিঞা, ডাঃ আব্দুল মান্নান, আশরাফুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, আক্তার হোসেনসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।



