বরাক তরঙ্গ, ১৩ মে : গুয়াহাটিতে অসম পুলিশের অপরাধ শাখার দফতরে বুধবার হাজির হন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মার ভুয়ো পাসপোর্ট সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে অসম পুলিশ। রিনিকি ভূঞা শর্মার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই নিখিল ভারত কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেড়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।
অপরাধ শাখার কার্যালয়ে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খেড়া জানান, তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তিনি বলেন, “পুলিশ আমাকে ডেকেছে, তাই আমি এসেছি। আমরা আইন ও বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করি। সেই কারণেই আইনি প্রক্রিয়া মেনে এখানে হাজির হয়েছি।” জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগে পবন খেড়া অভিযোগ করেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে অঘোষিত সম্পত্তি থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি। এই অভিযোগের পরই রিনিকি ভূঞা শর্মা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় গুয়াহাটির অপরাধ শাখা থানায় খেড়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।
কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ভুয়ো তথ্য প্রচার, প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল নথি ব্যবহার, শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান এবং মানহানির মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে অসম পুলিশ তাঁকে খুঁজতে দিল্লিতে তাঁর বাসভবনেও গিয়েছিল। তবে সেই সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।
পরবর্তীতে পবন খেড়া প্রথমে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত তাঁকে সাত দিনের অগ্রিম জামিন দেয়। যদিও অসম পুলিশ সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে।
পরে সুপ্রিম কোর্ট অগ্রিম জামিনের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়ে তাঁকে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে নির্দেশ দেয়। এরপর গৌহাটি হাইকোর্ট তাঁর অগ্রিম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে ফের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান খেড়া এবং শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালত তাঁকে অগ্রিম জামিন মঞ্জুর করে। অসম বিধানসভা নির্বাচনের সময় খেড়ার এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।



