মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৯ মে : ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির পরামর্শে চলবে না; জনগণের আস্থা, তৃণমূল সংগঠন ও আদর্শের শক্তিতেই আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে কংগ্রেস মন্তব্য শাহাদত আহমদ চৌধুরীর
রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার সরব করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী।কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ, ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ এবং সাংগঠনিক শক্তিকে সামনে রেখে আজমলের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। একইসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দেন— কংগ্রেস কোনো সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কাছে মাথানত করবে না, বরং জনগণের আস্থা ও আদর্শের শক্তিতেই আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।এরি মাঝে আসামের রাজনৈতিক মহলে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরে এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল-এর কড়া সমালোচনা করলেন করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অসম কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেই শিক্ষা কংগ্রেসকে বদরুদ্দিন আজমল সাহেবদের কাছ থেকে নিতে হবে না। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস একটি আদর্শভিত্তিক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। এই দলের ইতিহাস সংগ্রাম, ত্যাগ ও জনগণের আস্থার ইতিহাস। শাহাদত চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও সাংসদ গৌরব গগৈ-কে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজমল সাহেবের জানা উচিত, কংগ্রেস দল বহুবার উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছে। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিটি লড়াইয়ে কংগ্রেসের অবদান রয়েছে। অতীতেও কঠিন সময় এসেছে, কিন্তু কংগ্রেস জনগণের শক্তিতে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে।তিনি আরও বলেন,ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কোনও একটি সম্প্রদায়ের দল নয়। এটি দেশের প্রতিটি ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও শ্রেণির মানুষের দল। কংগ্রেসের মূল শক্তি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ।
অন্যদিকে এআইইউডিএফ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মাধ্যমে উঠে এসেছিল, তাই তাদের রাজনৈতিক উত্থান যেমন দ্রুত হয়েছে, তেমনি পতনও হয়েছে দ্রুতগতিতে। শাহাদত চৌধুরী আজমল সাহেবের “কংগ্রেস মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে” মন্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “এই ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। বর্তমানে দেশে কংগ্রেসের মোট ৬৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫২০ জন হিন্দু, ৮০ জন মুসলিম এবং ৬৪ জন অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। শতাংশের হিসাবে প্রায় ৭৮ শতাংশ হিন্দু এবং ১২ শতাংশ মুসলিম প্রতিনিধি কংগ্রেসে রয়েছেন, যা দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার অনুপাতের সঙ্গেও প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাহলে কিভাবে কংগ্রেসকে মুসলিম লিগ বলা হয়? তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেস কখনো বিভেদের রাজনীতি করে না। কংগ্রেস সবসময় ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা চাইলে নরম হিন্দুত্বের রাজনীতি করতে পারতাম, কিন্তু কংগ্রেস সেই পথ বেছে নেয়নি। কারণ কংগ্রেসের আদর্শ হচ্ছে সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। দেশের সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনাকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে বর্তমানে কংগ্রেস ব্যাপক সাংগঠনিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান শাহাদত চৌধুরী। তিনি বলেন, “দল এখন তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বুথ স্তর থেকে শুরু করে জেলা, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ চলছে। দলিত, আদিবাসী, অনগ্রসর শ্রেণি, পশমন্ডি সমাজ, উচ্চবর্ণসহ প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন কংগ্রেস নেতারা। মানুষের সমস্যা, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।তিনি বলেন,আজ দেশের মানুষ বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, সামাজিক বিভাজন ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তি খুঁজছে। সেই বিকল্প শক্তির নাম ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। মানুষ এখনও কংগ্রেসের আদর্শের উপর আস্থা রাখে। কারণ এই দল দেশের স্বাধীনতা, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীক।
শাহাদত চৌধুরী বলেন, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, ড. ভীমরাও আম্বেদকর এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদ-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা আজও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতার এই কঠিন সময়েও কংগ্রেস তার আদর্শ থেকে একচুলও সরে যায়নি। আগামী দিনে জনগণের আশীর্বাদ ও সমর্থন নিয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস আবারও দেশের ক্ষমতায় ফিরে আসবে। সেই লক্ষ্যেই দলের প্রতিটি কর্মী নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।



