৯ মে : পঞ্জাবের মন্ত্রী সঞ্জীব অরোরাকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ১০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলায় চলমান তদন্তের সূত্রে শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, দিল্লি, গুরুগ্রাম ও চণ্ডীগড়ে মোট পাঁচটি স্থানে তল্লাশি চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাঞ্জাবের শিল্পমন্ত্রী সঞ্জীব অরোরাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। চণ্ডীগড়ে তাঁর সরকারি বাসভবনের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সংস্থাগুলির সঙ্গেও যুক্ত একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়।
এর আগেও চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সঞ্জীব অরোরার বিরুদ্ধে ইডি অভিযান চালিয়েছিল। সেই সময় আম আদমি পার্টির (AAP) তৎকালীন রাজ্যসভা সাংসদ অশোক কুমার মিত্তলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের তল্লাশি হয়েছিল। পরে রাঘব চাড্ডাসহ দলের আরও ছয় রাজ্যসভা সাংসদের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেন অশোক কুমার মিত্তল।
ইডির অভিযোগ, সঞ্জীব অরোরা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সংস্থাগুলি দিল্লিভিত্তিক ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে মোবাইল ফোন কেনাবেচার জাল বিল তৈরি করেছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই ভুয়ো লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC), জিএসটি রিফান্ড এবং রপ্তানি সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আরও দাবি করেছে, এই লেনদেন থেকে অর্জিত অর্থ রপ্তানির মাধ্যমে ঘুরিয়ে পরে দুবাই থেকে ভারতে ফেরত আনা হয়, যাতে অবৈধ অর্থকে বৈধ বলে দেখানো যায়।
৬২ বছর বয়সি সঞ্জীব অরোরা বর্তমানে লুধিয়ানা ওয়েস্ট কেন্দ্রের বিধায়ক এবং তিনি প্রাক্তন রাজ্যসভা সদস্যও। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির নেতারা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের নিশানা করছে।



