বরাক তরঙ্গ, ৫ মে : বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজের নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি গৌরব গগৈ সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন,
“পরাজয়ের নৈতিক দায়িত্ব আমি স্বীকার করছি। আমি দলের অধিনায়ক ছিলাম এবং একজন অধিনায়ক হিসেবে সহকর্মী ও দলের জ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে আমরা যথেষ্ট স্বাধীনতা, সমর্থন ও সুপরামর্শ পেয়েছি। এই নির্বাচনের ফলাফলের ক্ষেত্রে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে আমি নৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাধারণ মানুষ, কংগ্রেস দলের নেতা-কর্মী সকলকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বিজেপি ও তাদের মিত্র দলগুলোকেও শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে অসমের যেসব জ্বলন্ত সমস্যা সমাধান হয়নি, বর্তমান সরকার যেন নতুন চিন্তা ও শক্তির মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করে এবং অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন পাইনি, তবুও আমরা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব। কংগ্রেস যদি শক্তিশালী বিরোধী না হয়, তাহলে অসমে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়বে। সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার মতো কোনো শক্তি থাকবে না, সাধারণ মানুষের সুরক্ষারও অভাব দেখা দেবে এবং সরকারকে জবাবদিহি করানোর কোনো কার্যকর মাধ্যম থাকবে না।”
তিনি যোগ করেন, “আসন সংখ্যা কম হলেও আমরা জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে গণতান্ত্রিক শক্তিকে আরও শক্তিশালী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই নির্বাচন থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে হবে। যেখানে যেখানে সংশোধনের প্রয়োজন, তা করা হবে—সংগঠন, রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও ব্যক্তিগত আচরণ—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনা হবে। আগামী শনিবার সকল বিধায়ক ও প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে প্রত্যেকে নিজেদের আসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন।”
অন্যদিকে, বিজেপিকে সমালোচনা করে গগৈ বলেন, “বিভিন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলেছি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও এ বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও চরিত্র নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এত বড় ভোটের ব্যবধান হবে বলে অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। বহু আসনে অল্প ব্যবধানে ফলাফল হওয়ার আশা ছিল, কিন্তু ফল ভিন্ন হয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে বিস্তারিত গবেষণা ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “ইভিএম নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব গণতন্ত্রে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না, তারা ‘এক দেশ, এক দল’ নীতিতে বিশ্বাসী। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ধীরে ধীরে দুর্বল করা হচ্ছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে একপাক্ষিক করার চেষ্টা চলছে। এই প্রক্রিয়ায় ইভিএম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।”
যোরহাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যোরহাটের মানুষ সচেতন এবং তারা ভেবে-চিন্তে ভোট দেন। আমি যতটা মানুষের কাছে যেতে চেয়েছিলাম, সভাপতি হিসেবে নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। লোকসভা নির্বাচনে দলের প্রতি যে আস্থা তৈরি করতে পেরেছিলাম, এবার যোরহাটে সেই ফল দিতে পারিনি—এজন্য আমি দুঃখিত।”



