বরাক তরঙ্গ, ৫ মে : বিধানসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য অর্জনের পর মঙ্গলবার সরকারি বাসভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফলাফল, বিরোধীদের ভূমিকা এবং আগামী সরকারের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত মত প্রকাশ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করার পর তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন, যা নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপও এই নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিরোধী কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গকে ঘিরে রাজনীতি করায় উল্টো ফল ভোগ করতে হয়েছে দলটিকে। তাঁর কথায়, “নিজস্ব ভোটভিত্তি দুর্বল হওয়ায় কংগ্রেস অন্যের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল, যা মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।”
কৌশলগত ভুলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “শব্দেরও শক্তি আছে। ‘তিন গগৈ’ বলার বদলে ‘তিন খিলঞ্জীয়া’ বললে হয়তো আরও ভালো ফল পেত কংগ্রেস।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সঠিক নেতৃত্বের অভাবে বিরোধীরা নিজেদের শক্তিশালী সমীকরণকেও কাজে লাগাতে পারেনি।
নতুন প্রজন্ম প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জেন-জি-ও বিজেপির সঙ্গেই রয়েছে।” তিনি জানান, বিচারপতি বিপ্লব শর্মা কমিটির সুপারিশ কার্যকর করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে অসমে আরও ব্যাপক উন্নয়ন হবে। “প্রথম পাঁচ বছর ছিল প্রস্তুতির, পরের পাঁচ বছর ভিত্তি নির্মাণের—এবার হবে উদ্বোধনের সময়,” বলেন তিনি। উচ্ছেদ অভিযানও আরও জোরদারভাবে চলবে বলে স্পষ্ট করেন।
কংগ্রেস নেতা দেবব্রত শইকিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। একইভাবে গৌরব গগৈর পরাজয়ের কারণ হিসেবে তিনি বিরোধীদের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যকে দায়ী করেন।
পাশাপাশি পবন খেরা বক্তব্য এবং তা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বুদ্ধিজীবী হীরেন গোঁহাইর মন্তব্যেরও পাল্টা জবাব দেন তিনি। অখিল গগৈ প্রসঙ্গে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, বিধানসভায় তাঁর উপস্থিতি প্রয়োজনীয়। “তিনি না থাকলে বাইরে আন্দোলন বাড়বে,” মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর।



