৫ মে: রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে মঙ্গলবার কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি নির্বাচনে হারেননি এবং কোনওভাবেই ইস্তফা দেবেন না। এমনকি রাজভবনেও যাবেন না বলেও ঘোষণা করেন তিনি। সোমবার ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই জল্পনা চলছিল যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। তবে রাত গড়ালেও তিনি রাজভবনে যাননি। মঙ্গলবার কালীঘাটের বৈঠক থেকে তিনি বলেন, “আমরা তো হারিনি। চক্রান্ত করে এই ফল করা হয়েছে। তাই ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যদি শপথ নিতে হত, তাহলে যেতাম।”
২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবার ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা জমা দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে এবারও একই ধরনের পদক্ষেপের প্রত্যাশা ছিল রাজনৈতিক মহলে, তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল R. N. Ravi মুখ্যমন্ত্রীকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। কিন্তু সে নির্দেশ এলেও তিনি তা মানবেন না বলেই স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই অবস্থানকে সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “প্রথম থেকেই সংবাদমাধ্যমে বিজেপির জয়ের প্রচার শুরু হয়। কয়েক রাউন্ড পর থেকেই আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে, মহিলাদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। ১৭সি ফর্ম কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। “আমাকে ধাক্কা দিয়ে মারতে মারতে বের করে দেওয়া হয়েছে। একজন মহিলা এবং মানুষ হিসেবে যে অপমান করা হয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় কর্মীদের সঙ্গে কী হয়েছে,” বলেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে



