তৃতীয়বারের জয়ে উৎসবে মাতল পাথারকান্দি, জনজোয়ারে ভাসলেন কৃষ্ণেন্দু

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৫ মে : টানা তৃতীয়বারের মতো পাথারকান্দি বিধানসভা আসনে জয়লাভ করে নতুন ইতিহাস গড়লেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। এই জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে মঙ্গলবার পাথারকান্দি ও লোয়াইরপোয়া মণ্ডলে পৌঁছাতেই তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, ঢাক-ঢোল এবং স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে হ্যাটট্রিক জয় নিশ্চিত করার পর কংগ্রেস প্রার্থী কার্তিক সেনা সিনহাকে পরাজিত করে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন। এরপরই কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ওই দুই মণ্ডলে যান তিনি। সর্বত্রই তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়, যা কার্যত জনজোয়ারের রূপ নেয়।
দুপুরে প্রথমে পাথারকান্দি বিজেপি ব্লক মণ্ডল কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং বিজয় সংবর্ধনায় ভূষিত করা হয়। আবেগঘন মুহূর্তে বিধায়ক সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই জয় মানুষের আস্থা ও কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফল।
পরবর্তীতে লোয়াইরপোয়া মণ্ডল কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথজুড়ে সমর্থকেরা ফুল-মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। সেখানে বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘বিজেপি জিন্দাবাদ’ এবং হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জিন্দাবাদ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।

ভাষণে কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, “এই জয় আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও জনগণের আশীর্বাদের ফল। পাথারকান্দিতে বিপুল ব্যবধানে জয় সম্ভব হয়েছে কর্মীদের নিষ্ঠার কারণেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অসম দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে এবং এই ফলাফল তারই প্রতিফলন।

এই জয়ের কৃতিত্ব তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে উৎসর্গ করেন। পাশাপাশি বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, নির্বাচনের সময় অনেকেই সামনে এলেও ফল ঘোষণার পর তাদের আর দেখা যায় না।

তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, পাথারকান্দিকে আসামের অন্যতম উন্নত ও সমৃদ্ধ বিধানসভা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি চা-বাগান শ্রমিক পরিবারের জমি ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

শেষে গেরুয়া আবিরে রঙিন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন তিনি। উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা এবং ঐক্যের বার্তায় পাথারকান্দিতে এভাবেই উদযাপিত হলো এই ঐতিহাসিক জয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *