বরাক তরঙ্গ, ৫ মে : অসম বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়ে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। এই জয়ের বড় অংশের কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মর দিকেই যায়। তাঁর উন্নয়নমূলক কাজ, জনমুখী প্রকল্প এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ বিরোধীদের কার্যত কোণঠাসা করে দেয়।
এদিকে, নির্বাচনে বড় জয়ের পর মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে আরএসএস-এর প্রধান কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁদের সঙ্গে সেলফিও তোলেন। কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া স্থানীয়দের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতাও করেন তিনি। সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান এবং ছবি তোলার জন্য পোজ দেওয়ার পর সেখান থেকে বিদায় নেন। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত অসম বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি মোট ১২৬টি আসনের মধ্যে ৮২টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেছে।
সোমবার ঘোষিত ফলাফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দৃষ্টান্তমূলক জয় পায়। পাশাপাশি উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে বিজেপি এককভাবেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। ১২৬ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক সংখ্যা ৬৪।
অন্যদিকে, বিজেপির মিত্রদল বিপিএফ এবং অসম গণ পরিষদ প্রত্যেকেই ১০টি করে আসন পেয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস মাত্র ১৯টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস ১টি, রাইজর দল ২টি এবং এআইইউডিএফ ২টি আসন পেয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রথমবার হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করে নির্বাচনে লড়েছিল বিজেপি, এবং এই নির্বাচনে দলটি রাজ্যে তাদের সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা অর্জন করেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ৬০টি এবং কংগ্রেস ২৬টি আসন পেয়েছিল। এবারের জয়ের মাধ্যমে অসমে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এল।
এদিকে, দলের এই সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁদের অভিনন্দন জানান। এক্সে তিনি লেখেন, “অসম আবারও বিজেপি-এনডিএ-কে আশীর্বাদ করেছে। এই জয় প্রমাণ করে আমাদের জোট উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছে এবং জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। এই বিপুল জনসমর্থনের জন্য অসমের ভাই-বোনদের ধন্যবাদ। রাজ্যের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাব।” তিনি আরও বলেন, “অসমের মানুষের জন্য নিরলস পরিশ্রম করা বিজেপি-এনডিএর প্রতিটি কর্মী প্রশংসার দাবিদার। গত এক দশকে আমাদের দল ও জোট যেভাবে উন্নতি করেছে তা সত্যিই উল্লেখযোগ্য। এই প্রচেষ্টাই প্রমাণ করে আমাদের ইতিবাচক এজেন্ডা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।”



