বরাক তরঙ্গ, ২ মে : ৯ এপ্রিল ইভিএমে বন্দি হয়েছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও শীর্ষ নেতাদের ভাগ্য। সেই ভাগ্যের নির্ণয় হবে আগামী সোমবার। ফল ঘোষণার আগেই সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিরোধী শিবির। এই প্রেক্ষিতে শনিবার কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলির দ্বিতীয় পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গুয়াহাটির বশিষ্ঠ এলাকায় অবস্থিত হোটেল রত্নমৌলী প্যালেসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা জিতেন্দ্র সিং, কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার, ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈ, অসম জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরীনজ্যোতি গগৈ এবং বিরোধী জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেতারা এক্সিট পোল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ বলেন, “এবার অনেক নীরব ভোটার রয়েছেন, বিশেষ করে মহিলাদের ভোটদানের হার বেড়েছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শাসনের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছেন। তাই এক্সিট পোলের ওপর আমাদের কোনও আস্থা নেই। এগুলি বিজেপি নিয়ন্ত্রিত।”
কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বলেন, “আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ এবং আত্মবিশ্বাসী। আমরা ভালো নির্বাচন লড়েছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি এক্সিট পোল বিশ্বাস করি না। অসমে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তবে ভোট প্রক্রিয়া গোপনীয়, ফল আগে বলা সম্ভব নয়। আমাদের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় সব প্রার্থী আত্মবিশ্বাসী। আমরা সরকার গঠন করব।”
কংগ্রেস নেতা জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, “বিজেপি ভয় দেখিয়ে এবং বিপুল অর্থ খরচ করে নির্বাচন লড়েছে। ভোট কেনার চেষ্টাও হয়েছে। তবুও কংগ্রেস ও মিত্রদল শক্তভাবে লড়াই করেছে। যদি বিজেপি এতটাই আত্মবিশ্বাসী হয়, তবে কেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার অসমে এসেছেন? এক্সিট পোল সম্পূর্ণ ভুল এবং তা প্রভাবিত।”
রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈ দাবি করেন, “অসমের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আমরা ৭০টির বেশি আসনে জিতব এবং গৌরব গগৈ মুখ্যমন্ত্রী হবেন। ৪ মে দুপুরের মধ্যেই সরকার গঠনের চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে।” অসম জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরীনজ্যোতি গগৈ বলেন, “বিরোধী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ, বিজেপি বিভক্ত। ফল প্রকাশের পর তা স্পষ্ট হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯ এপ্রিলও কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রার্থীদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছিল। যদিও ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত এক্সিট পোলগুলিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সেই প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতেই শনিবার পুনরায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এখন নজর সোমবারের ফল ঘোষণার দিকে।



