৩০ এপ্রিল : বুধবার দুপুরে ভোট দিতে গিয়ে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ ওই বৃদ্ধের ছেলের। মৃতের নাম পূর্ণচন্দ্র দলুই (৮০)। ঘটনাটি ঘটেছে উদনারায়ণপুর বিধানসভার (Udaynaryanpur Assembly) কুরিট গ্রামের ২৪৫ নম্বর বুথ বলরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে। বৃদ্ধার ছেলের দাবি, পূর্ণচন্দ্র একা চলতে পারেন না। তিনি ওই বৃদ্ধ বাবার সঙ্গে বুথের ভেতরে যেতে চাওয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী আপত্তি করে। বচসার মাঝেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ।
সেই ধাক্কাতেই পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যান পূর্ণচন্দ্র। এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ওই পরিবার ওই বুথে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। মৃত বৃদ্ধের ছেলের স্পষ্ট দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান অতর্কিতে তার বাবা এবং তাকে ধাক্কা না মারলে এই ঘটনা ঘটত না। তার বৃদ্ধ বাবা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হন।
হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স জনিত কারণে পূর্ণচন্দ্র দলুই হাঁটা চলা করতে পরে না। তিনি পরপর দুই বার সেনা জওয়ানের কাছে অনুরোধ করেন তাঁর ছেলেকে তাঁর সঙ্গে যেন ঢুকতে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, সেনা জওয়ান সেই আর্জি শোনেননি। তৃতীয়বার যখন আর্জি করেন তখন তাঁকে একাই ভোেট কেন্দ্রে যেতে বলেন কর্তব্যরত সেনা জওয়ান।
উদয়নারায়নপুরে তৃণমূল প্রার্থী সমীর পাঁজা অভিযোগ করেছেন, তৃতীয় বার যখন ভোট দিতে গিয়ে ভোট কেন্দ্র থেকে বেরোতে দেরি হয় বৃদ্ধের, তখন সেনা জওয়ান রীতিমতো সেই বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে বার করে আনেন। আর সেই সময় পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ লোক। এরপর সেই বৃদ্ধকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় যথেষ্ট উত্তেজনা সৃষ্টি হয় ওই বুথে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওই পরিবারে। ওই বৃদ্ধের ছেলে অভিযোগ করেন বুথের দায়িত্বে থাকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান পিঠে ধাক্কা দিলে তার বাবা মাটিতে পড়ে যায়। কেন সে বাবাকে সেদিন ভোট দিতে পুড়ে নিয়ে গেল এই নিয়ে আফসোস করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃত বৃদ্ধের ছেলে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এক্স হ্যান্ডেলে টুইট করে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কমিশনের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আনা জওয়ানের ধাক্কায় মৃত্যু অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।



