২৭ এপ্রিল : পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে দেহ সিমেন্ট-ভর্তি বাক্সে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল এক স্বামীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের সুরাটে (Surat)। মৃতের নাম শিল্পা সালভি (৩৯), পেশায় তিনি একজন ডায়েটিশিয়ান। অভিযুক্ত স্বামী বিশাল সালভি (৪০) বর্তমানে পলাতক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত চারদিন আগে বিশাল থানায় এসে অভিযোগ করেন যে তাঁর স্ত্রী নিখোঁজ। পুলিশ নিখোঁজ ডায়েরি করে তদন্ত শুরু করলেও দ্রুতই মামলার মোড় ঘুরে যায়। দম্পতির নাবালক ছেলে ঘর থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সেখানেই লুকিয়ে ছিল খুনের রহস্য। চিরকুটে বিশাল স্বীকার করেন যে, তিনি একটি বড় ভুল করে ফেলেছেন এবং শিল্পা আর বেঁচে নেই।
এই চিরকুট পাওয়ার পরেই পুলিশ বিশালকে খুঁজতে শুরু করে। এরপর সালাবাতপুরা থানা এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির হদিস পায় তদন্তকারীরা। সেখানে তল্লাশি চালাতেই দুর্গন্ধ পান পুলিশকর্মীরা। এরপর ঘরের এক কোণে রাখা একটি কাঠের বাক্স ভেঙে দেখা যায়, তার ভেতর শিল্পার পচাগলা দেহ রাখা রয়েছে। দেহটি যাতে শনাক্ত না করা যায় এবং গন্ধ না ছড়ায়, তার জন্য সেটি কাঁচা সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, নিখোঁজ ডায়েরি করার অন্তত ৪-৫ দিন আগেই খুন করা হয়েছে শিল্পাকে। পুলিশ আধিকারিক কানন দেশাই বলেন, ‘একটি চিরকুট উদ্ধারের পরেই নিখোঁজ মামলার তদন্ত খুনের মামলার দিকে মোড় নেয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।’
পরিচিতদের বয়ান অনুযায়ী, ওই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। বিশাল তাঁর স্ত্রীর চারিত্রিক সততা নিয়ে সন্দেহ করতেন। সেই পরকীয়ার সন্দেহের (Marital discord) বশেই এই হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ। অভিযুক্ত বিশালকে ধরতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং একাধিক টিম গঠন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।



