২১ এপ্রিল : গুরুদ্বারের ভিতরেই খণ্ডযুদ্ধ। প্রার্থনাস্থলে ঝরল রক্ত। হাতাহাতি থেকে ছুরি মেরে আঘাত। বন্দুক বের করে গুলি চালানোর সঙ্গে সঙ্গে একে অন্যের চোখে পেপার স্প্রে করারও অভিযোগ উঠেছে। দু’পক্ষের সংঘর্ষে সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে জার্মানির মোয়ার্স শহরের ডুইসবুর্গের এক গুরুদ্বার। ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১ জন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল গুরুদ্বারের ভিতর হওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভিডিয়ো।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছয় পুলিশের বড় বাহিনী। বিশেষ ট্যাকটিক্যাল ইউনিটও মোতায়েন করা হয়। ইতিমধ্যে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সোমবার গুরুদ্বারের ভিতরে প্রার্থনার ঠিক আগে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে চেঁচামেচি শুরু হয়। তার পরেই তাদের মধ্যে কেউ পেপার স্প্রে ব্যবহার করায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি, মারধর। এর মধ্যে কৃপাণও চালানো হয় বলে অভিযোগ। গোলমালের মধ্যেই কোনও এক জন পিস্তল বার করে শূন্য গুলি ছুড়তে থাকে। ঘটনাস্থল থেকে কার্তুজের খোল উদ্ধার হয়েছে, যদিও ব্যবহৃত অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় গুরুদ্বারে উপস্থিত বাকি মানুষের মধ্যে। গুরুদ্বারের ভিতরে থাকা বহু মানুষ আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি। যাদের বেশিরভাগই মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তবে আহতদের মধ্যে বেশিরভাগেরই আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গিয়েছে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁদের চিকিৎসা করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪০ জনেরও বেশি মানুষ এই সংঘর্ষে জড়ান। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। গুরুদ্বারে মোতায়েন পুলিশের বিশেষ বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গুরুদ্বারের আর্থিক বিষয় ও পরিচালন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধের জেরেই দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। যা পরে মারাত্মক আকার নেয়। যদিও জার্মান পুলিশের তরফে কোনও নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত ভাবে জানানো হয়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, নতুন পরিচালন পর্ষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত হতে পারে। এই বিবাদে জড়িত ছিলেন গুরুদ্বারের প্রাক্তন ও বর্তমান পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলে অভিযোগ। নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষ বলে দাবি।



