বরাক তরঙ্গ, ১৯ এপ্রিল : মহিলা সংরক্ষণ বিলকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করলেন মীরা বরঠাকুর গোস্বামী। প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা দিসপুর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অভিযোগ করেন, বিজেপি কংগ্রেসের উপর দোষ চাপিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছে এবং বিরোধীদের নারী-বিরোধী বলে চিত্রিত করতে চাইছে।
রবিবার গুয়াহাটির মানবেন্দ্র শর্মা কমপ্লেক্সে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৪৫৪ ভোটে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা মহিলা সংরক্ষণে সমর্থন জানালেও বিজেপি কেন্দ্র পুনর্নির্ধারণের শর্ত জুড়ে দিয়ে বিষয়টিকে জটিল করে তোলে। তার প্রশ্ন, আইন পাস হওয়ার পরও তা কার্যকর করা হল না কেন?
তিনি আরও দাবি করেন, সংসদে বিজেপির মহিলা প্রতিনিধিত্ব মাত্র ১২.০৯ শতাংশ, যেখানে কংগ্রেসের ১৪.৯ শতাংশ। অসমের ক্ষেত্রেও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একজন মহিলা প্রার্থী দিলেও কংগ্রেস দুজনকে প্রার্থী করে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মাত্র ছয়জন মহিলা প্রার্থী দিয়েছে, বিপরীতে কংগ্রেস ১৩ জনকে সুযোগ দিয়েছে।
বিজেপির নারী-সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “নারী শক্তির কথা বলা হলেও বাস্তবে নারীর প্রতি কোনও সম্মান নেই।” নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহর ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশেষত মণিপুরে নারী নির্যাতনের ঘটনায় তাঁদের নীরবতা নিয়ে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মহিলা সংরক্ষণ বিলের আড়ালে বিজেপি কেন্দ্র পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে। বড় হিন্দিভাষী রাজ্যগুলিতে আসন বাড়িয়ে ছোট রাজ্যগুলিকে দুর্বল করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মীরা বরঠাকুর গোস্বামী বলেন, “মহিলা সংরক্ষণের নামে বিজেপি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে। প্রকৃত অর্থে নারীদের ক্ষমতায়নের কোনও আন্তরিকতা তাদের নেই।” তিনি বিভিন্ন নারী নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখ করে বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন এবং বলেন, এই বিষয়গুলি থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই বারবার কংগ্রেসকে দোষারোপ করা হচ্ছে।



