ব্যক্তি আক্রমণে কলুষিত অসমের রাজনীতি

Spread the news

।। প্রদীপ দত্ত রায় ।।
(লেখক প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী)
১৭ এপ্রিল : অসমের সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্রমে যেন কলুষিত হয়ে পড়ছে। এবারের নির্বাচনে ব্যক্তি কেন্দ্রিক আক্রমণ গণতান্ত্রিক মর্যাদাকে কতটা হানি পৌঁছিয়েছে সেটা ভেবে দেখা প্রয়োজন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দেখা গেছে দলের চেয়ে যেন ব্যক্তি বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এ যাবৎ কাল লক্ষ্য করে এসেছি দলীয় নীতি-আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই হয় ভোটের ময়দানে। কিন্তু কোনও প্রার্থীর নামে কুৎসা রটনা করা, তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা এ ধরনের ঘটনা আগে লক্ষ্য করা যায়নি, যা এবার লক্ষ্য করা গেল। তাছাড়া দলীয় নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে দল বদলে অন্য দলে ভিড়ে মনোনয়ন লাভ করার ঘটনাও নজিরবিহীন হয়ে রইল অসমে। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনার লক্ষ্য করা গেলেও বরাক উপত্যকায় এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। বরাকের রাজনীতিতে সৌজন্যবোধ অনেকটাই এখনো টিকে রয়েছে। এক প্রার্থী অপরপ্রার্থীর কাজকর্মের সমালোচনা করেছেন এমন কিছু বয়ান বাজী ভোটের প্রচারে স্থান করে নিলেও তা শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়নি। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ছোট ছোট একান্ত ব্যক্তিগত খাদ্যরুচি, পারিবারিক অবস্থা ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে ভোট দাতাদের মধ্যে যথেষ্ট বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার করা হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে এসব খুবই নিচু মানসিকতার কাজ বলেই ধরে নেওয়া উচিত। কারণ এসবের সঙ্গে হাম ভোট ডাকার কোন লাভ ক্ষতি জড়িত নেই।

সঙ্গীতশিল্পী ড. ভূপেন হাজরিকা এবং জুবিন গর্গ অসমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। অসমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিয়ে বিশ্বকে আকর্ষণ করেছেন। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভোটের ময়দানে গৌরব গগৈ, অখিল গগৈ, লুরিনজ্যোতি গগৈ, কু্ংকি চৌধুরী প্রমুখ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যেভাবে খর্গ হস্ত হয়ে আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করেছেন তাতে রাজনীতির পরিসরে নেতিবাচক উপায়ে অসমকে তিনি গোটা ভারতের সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়ে দিয়েছেন। প্রতিপক্ষরা মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের জবাব দিলেও তা ততটা জোরালো ছিল না। তাছাড়া বিরোধী পক্ষের কণ্ঠস্বর গুলি সংবাদ মাধ্যম দিয়ে জনগণের মধ্যে খুব কম পরিমাণে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে। দলীয় রাজনীতিতে দলের কাজ কর্মের সমালোচনা করে নিজ দলের উন্নয়নমূলক কাজের গুণ কীর্তন করা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু কোনও ব্যক্তির নামে কুৎসা রটিয়ে তাকে জনসমক্ষে হেয় করে ভোটের সুফল গুনার কূট কৌশলটি সৌজন্যতার বাইরে। সমাজ সচেতন মানুষজনের নজরে এসেছে এটা এবং ভোটদাতারা এ বিষয়টাকে সুনজরে দেখেননি। ভোটের ফলাফল কি হয় তা দেখেই বোঝা যাবে মানুষ এ ধরনের ব্যক্তি কেন্দ্রিক আক্রমণকে মেনে নিয়েছেন না এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। ভোটের বাক্সে তা প্রমাণ হয়ে যাবে।

আগে অসমের রাজনীতিতে সৌজন্যের চিত্রটি যথেষ্ট সুন্দর ছিল। দেখা গেছে একই বাড়ির পরিসরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয় পাশাপাশি রয়েছে। এক কার্যালয়ের কর্মীরা অন্য কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বার্তালাপ করছেন। প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে একপ্রার্থী অপর প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্যমূলক কথাবার্তায় পিছিয়ে থাকেননি। বরাক উপত্যকায় তো চিরকালই রাজনীতির ময়দানে একটা সৌজন্যের বাতাবরণ বজায় ছিল। বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে কংগ্রেসের প্রতাপশালী নেতা সন্তোষ মোহন দেব বিজেপি নেতা কবীন্দ্র পুরকায়স্থ এবং সিপিএম নেতা নুরুল হুদা একই ফ্রেমে চিত্র সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দলীয় বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল মধুর। ভোটের ময়দানে তারা দলের সমালোচনায় মুখর থাকলেও কোনও ধরনের ব্যক্তি আক্রমণ বা কুৎসা রটনা করেননি। একরকম চিত্র অসমের অন্য অংশ ছিল কিন্তু তা ক্রমে যেন বদলে যেতে শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত কুৎসা রটনার ক্ষেত্রে অসমের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা এগিয়ে থাকলেও এক্ষেত্রে বরাক উপত্যকা অনেকটাই ব্যতিক্রম। এখনো এখানে সৌজন্যের রাজনীতি বেঁচে রয়েছে। প্রার্থীরা যথেষ্ট সংযত মনোভাবের পরিচয় দিয়েই ভোটের প্রচার চালিয়ে গেছেন। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রার্থীর সমালোচনা করা হয়েছে বটে। তবে সেটা নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনেই। ফলে বরাকের রাজনীতি ততটা কলুষিত হয়নি যতটা হয়েছে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার রাজনীতি।

২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এবং পরে যে দৃশ্য গুলি এ রাজ্যের মানুষ দেখতে পেয়েছে তা খুবই অবাক করার মতো। দলীয় মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হয়ে কিছু নেতা অন্য দলে নাম লিখিয়ে পরদিনেই সেই দলের মনোনয়ন আদায় করে ফেলেছেন। আবার অন্য দল থেকে যোগ দিয়ে মনোনয়ন লাভ করায় কোনও ব্যক্তি সেই দল ছেড়ে বিপক্ষ দলে যোগ দিয়ে মনোনয়ন লাভ করেছেন। এসব ঘটনা ভোটদাতাদের অবাক করেছে। বিশেষ করে কাটিগড়া বিধানসভা আসনে এককালের কংগ্রেস নেতা কমলক্ষ দে পুরকায়স্থ বিজেপি দলে যোগ দিয়ে সেই দলের মনোনয়ন লাভ করেন এর প্রতিবাদে বিজেপি নেতা অমরচাঁদ জৈন রাতারাতি বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেস দলে যোগ দেন এবং তিনিও কংগ্রেস দলের মনোনয়ন লাভ করেন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় দলীয় নেতাদের সঙ্গে সংঘাতের ফলে কংগ্রেস ত্যাগ করেন প্রদ্যুৎ বরদলৈ। তিনি বিজেপি দলে যোগ দিয়ে দিসপুর আসনে মনোনয়ন লাভ করেন। এর ফলে ওই আসনের বিজেপি দলের টিকিট প্রত্যাশী জয়ন্ত দাস নির্দল হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জয়ন্তর পিছনেও আরএসএস-এর মদত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এইযে এই দল বদল করে ভোট দাতাদের উপর প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া এটা কিন্তু আগে এতটা প্রকট ছিল না। এবারের নির্বাচনেই এটা দেখা যাচ্ছে। এসব ঘটনায় ভোট দাতাদের উপর কিছুটা প্রভাব পড়তেও পারে তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে আজকাল দলের প্রতীকের পেছনেই আম ভোট দাতারা নিজেদের মতদান করে থাকেন। যদিও কোনও কোনও ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

ভারতে দলকেন্দ্রিক রাজনীতি রয়েছে। কাজেই এক দল আরেক দলের নীতি আদর্শের ক্ষুরধার সমালোচনা করবে এটা স্বাভাবিক। কোন দলের সরকার উন্নয়নমূলক কাজ কতটা করতে পারলো কতটা ব্যর্থ হল সেসব তুলে ধরে সমালোচনার মাধ্যমে ভোটদাতাদের মন জয় করার নির্বাচনী কৌশল চিরকাল গ্রহণ করে আসা হয়েছে। একইসঙ্গে নিজেদের দলের উন্নয়নমূলক কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরে জনসাধারণকে আকৃষ্ট করার ভোট প্রচার সব জায়গায় দেখা যায়। এইসব প্রচারের সময় যেসব উন্নয়নমূলক কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয় তার কতটা সত্য কতটা আরোপিত তা জনসাধারণের পক্ষে বোঝা মুশকিল। কারণ প্রবাদ আছে, জনসাধারণ দীর্ঘকাল স্মৃতি ধরে রাখতে পারেন না। হালফিলের চিত্র দেখেই তারা তাদের পথ চিহ্নিত করে নেন। প্রচারের ক্ষেত্রে দলীয় রাজনীতির দ্বন্দ্ব সামনে থাকলেও ভিতরে ভিতরে আরও অনেক ফ্যাক্টর কাজ করতে থাকে। ভারতের মতো বিশাল দেশে ধর্ম, জাত পাত এবং সম্প্রদায়গত রাজনীতি ভিতরে ভিতরে অনেক জল ঘোলা করে। জয় পরাজয়ের অনেক অংক এসব ফ্যাক্টর এর মাধ্যমেই নির্ণয় হয়ে থাকে। সাম্প্রদায়িকতা, আঞ্চলিকতাবাদ , জাতভিত্তিক রাজনীতি এসব একেবারে নেই সে কথা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারবেন না। ফলে রাজনৈতিক দলগুলিও প্রার্থী চয়ন করার ক্ষেত্রে এসব ফ্যাক্টরকে কিছুটা গুরুত্ব দিয়ে থাকে। না হলে সংশ্লিষ্ট আসনে সম্ভাব্য পরাজয়ের সম্মুখীন হতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই প্রার্থী চয়নে এ ধরনের কৌশল গ্রহণ করা হয়। কোনো কোনো রাজ্যে তো এইসব বিষয়ে অধিক গুরুত্ব পেয়ে থাকে। অসমের ক্ষেত্রে তো অঞ্চল ভিত্তিক এবং সম্প্রদায় ভিত্তিক প্রার্থী চয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেহেতু এই রাজ্যটি বহুভাষিক, বহু ধর্ম এবং জাতি জনজাতির বসবাস ভূমি, তাই প্রার্থী চয়নের ক্ষেত্রে এ বিষয়টিকে মাথায় রেখেই কাজ করে থাকে। বিধানসভায় সব জনগোষ্ঠীর যাতে প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত হয়ে সেটা মাথায় রেখে কাজ করার ফলে কোনও কোনও সময় সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উগ্রভাব কিছুটা দূর হয়ে থাকে। তবে ধর্মীয় বিভাজনের অঙ্কে যে রাজনীতি চলছে তাতে কোনও পক্ষই এর বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। আম ভোটদাতারা অনেক সময় ধর্মের টোপ গিলে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রার্থী যদি সর্বজন গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন  তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্নতর রূপ লাভ করে। তবে এটা একান্তই ব্যতিক্রম বলে ধরে নিতে হয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিভাজনের যে রাজনীতি এটা এখন অসমসহ বিভিন্ন রাজ্যেই যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অস্তিত্বের সংকটের প্রশ্ন সামনে রেখে মানুষকে তাতানো হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক কুশীলগদের এই ফাঁদে পা দিয়ে নিজ নিজ পক্ষ অবলম্বন করে থাকেন। ফলে বিভাজনের রাজনীতি সাফল্যের মুখ দেখে থাকে।

আমাদের উপপাদ্য বিষয় যেহেতু ব্যক্তি আক্রমণের রাজনীতি নিয়ে কথা বলা সে হিসেবে আমি বলতে চাই যে কোনও দলের যে কোনও নেতাই নিজেকে যদি সংযত আচরনের মধ্যে রাখতে না পারেন তাহলে তা সামগ্রিকভাবে রাজনীতির অঙ্গনকে কলুষিত করা থেকে রক্ষা করা যাবে না। ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা না করেও ভোট রাজনীতি চলতে পারে। চলা উচিতও বটে। তাতে রাজনীতির অঙ্গন পরিচ্ছন্ন থাকবে মানুষের মনে হিংসা বিদ্বেষের ভাব কম উদয় হবে। কোনও কোনও দলের নেতাদের বলতে শোনা যায় “ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ” কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তারা ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনীতিতেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে দল এবং দেশ গৌণ হয়ে পড়ে। সাধারণ ভোট দাতাদের পক্ষে এসব কুটকৌশল বোঝা মুশকিল। ভোটের সময় প্রচারের স্রোতে সাধারণ ভোটদাতারা আবেগে ভাসতে থাকেন আর এই আবেগকে হাতিয়ার করে রাজনীতিক কুশিলবরা নিজেদের সুবিধে আদায় করে নেন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর অনেক সময় সাধারণ ভোটাররা ফলাফল দেখে অবাক হয়ে থাকেন। কারণ, ভোটের প্রচারকালে স্রোত এবং প্রতিশ্রোত দুটোই চলতে থাকে। প্রার্থীর নৌকা এই পরিস্থিতিতে কোন ঘাটে গিয়ে ভিড়বে সেটা অনুমান করতে পারেন না। অনেক সময় তাই কাঙ্খিত ফল লাভ হয় না, আবার অনেকের ভাগ্যে অযাচিতভাবে সুফল লাভ হয়ে যায়। ব্যক্তিগত আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণ ছেড়ে রাজনীতিকরা যদি সাধারণ মানুষের দুঃখ তার দুর্দশা নিয়ে সরব হয়ে রাজনীতি করেন তাতে রাজনীতির পরিবেশ যেমন সুন্দর থাকবে। তেমনি সাধারণ ভোটদাতারা সঠিক প্রার্থী চয়ন করতেও সক্ষম হবেন। কিন্তু ভোটদাতাদের বিভ্রান্ত করাই যাদের মূল লক্ষ্য তারা কখনও এটা হোক তা চাইবেন না। ফলে ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা করা কাদা ছোড়াছুড়ি সত্য-মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রার্থীর চরিত্র হনন করা, সামাজিক ক্ষেত্রে হেয় প্রতিপন্ন করা ইত্যাদি পদক্ষেপ করা হয়ে থাকে। যদিও সংক্ষিপ্ত পরিসরে এর সুফল লাভ হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এর পরিণাম কিন্তু ভয়াবহ তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তাই প্রতিটি রাজনীতিকের উচিত নিজ আত্মশুদ্ধির পথে হেঁটে এই অশুভ প্রবণতা ত্যাগ করে রাজনীতির অঙ্গনকে ইতিবাচক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা।
(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *