১৬ এপ্রিল : ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে নারী অধিকার ও ক্ষমতায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলো ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিল। বৃহস্পতিবার লোকসভায় বিলটি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একদিকে আবেগপ্রবণ হন, অন্যদিকে এর বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগটি প্রায় ৩০ বছর আগেই বাস্তবায়িত হওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, নব্বইয়ের দশকে যখন প্রথমবার মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, তখনই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আজ ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্র আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী হয়ে উঠত। দীর্ঘদিন ধরে নারীদের অপেক্ষার বিষয়টিকেও তিনি তুলে ধরেন এবং জানান, এটি শুধু একটি আইনি সংস্কার নয়, বরং সামাজিক বঞ্চনার সংশোধনের একটি প্রয়াস।
লোকসভায় এই বিলকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, একটি দেশের জীবনে এমন কিছু সিদ্ধান্ত থাকে, যা ভবিষ্যতের স্থায়ী ঐতিহ্য গড়ে তোলে। তাঁর কথায়, নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া মানে দেশের ভবিষ্যৎকে আরও সুরক্ষিত করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিলের সুফল কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সমগ্র দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিন বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি প্রধানমন্ত্রী। অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের মানুষ সেই অবস্থানের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। যদিও রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে তিনি একে দেশের সম্মিলিত সাফল্য বলেই উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও এক দলের জয় নয়, বরং গোটা ভারতের অর্জন।
ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই বিলের লক্ষ্য শুধুমাত্র আসন সংরক্ষণ নয়, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর যথার্থ মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।



