১৬ এপ্রিল : ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসে কোনও রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের হার কমবে না। বর্তমানে সংসদে প্রতিটি রাজ্যের যে শক্তি রয়েছে, ডিলিমিটেশনের পরেও তা-ই থাকবে। মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার লোকসভায় যে তিন বিল পেশ করেছে কেন্দ্র, তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল।
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই সংসদে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। মহিলা সংরক্ষণ বিল আগে সংসদে পাশ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তা কার্যকর করতে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যেই সংবিধানের ১৩১-তম সংশোধনী বিল, আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল পেশ করা হয়েছে। বিরোধীরা মহিলা সংরক্ষণের প্রস্তাবে সমর্থনের কথা বললেও, যে ভাবে আসন পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা চলছে, তার বিরোধিতা করছে। তাদের বক্তব্য, মোদী সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০-এ নিয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা করছে, তাতে বিজেপির গড় উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলি বেশি উপকৃত হবে। সেই সব রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে আরও বেড়ে যাবে দক্ষিণ বা পূর্ব ভারতের থেকে।
বিরোধীদের এই দাবি নস্যাৎ করতে গিয়েই মেঘওয়াল বলেন, ‘সরকার যে পরিকল্পনা করেছে, তাতে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়বে। কোনও রাজ্যেরই ক্ষতি হবে না। সব রাজ্যেরই একই শক্তি বজায় থাকবে।’ আসন পুনর্বিন্যাসের লোকসভার কত আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হবে, তা-ও জানালেন আইনমন্ত্রী। বলেন, ‘লোকসভার আসন সংখ্যা বেড়ে ৮৫০ হলে, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা হবে ২৭২। অর্থাৎ, ৩৩ শতাংশ।’
যদিও সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, সরকার পক্ষ ৫০ শতাংশ আসনবৃদ্ধির যে দাবি করছে, তা আদতে ভাঁওতা। ডিলিমিটেশনের পর আসন সংখ্যা তো বাড়বে। সমশক্তি বজায় থাকবে না। দক্ষিণী রাজ্যগুলির বক্তব্য, সব রাজ্যের লোকসভা আসন ৫০ শতাংশ করে বাড়লে দক্ষিণ ভারত বঞ্চিত হবে। কারণ উত্তরপ্রদেশের লোকসভা আসন ৮০ থেকে বেড়ে ১২০ হবে। কেরলের লোকসভা আসন ২০ থেকে বেড়ে মাত্র ৩০টি হবে।



