‘ধর্মে সংরক্ষণ সংবিধানবিরোধী’, সংসদে মুসলিম মহিলাদের জন্য পৃথক কোটার দাবি ওড়ালেন অমিত শাহ!

Spread the news

১৬ এপ্রিল : সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলাকালীন মুসলিম মহিলাদের জন্য পৃথক সংরক্ষণের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে ভারতীয় সংবিধান ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের সংরক্ষণের অনুমতি দেয় না।

সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ধর্মেন্দ্র যাদব জানান যে ওবিসি, অনগ্রসর শ্রেণি এবং মুসলিম মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তার দল এই প্রস্তাব সমর্থন করবে না। এর জবাবে অমিত শাহ বলেন যে ধর্মেন্দ্র যাদব একটি অসাংবিধানিক বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিমদের সংরক্ষণ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না কারণ দেশের মূল সংবিধানে এমন কোনো বিধান নেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুও এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন যে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে দাবি না তুলে সামগ্রিকভাবে দেশের সমস্ত মহিলাদের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এদিন লোকসভায় আলোচনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি জানান যে দেশে জনগণনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে এবং সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এবার সাধারণ গণনার পাশাপাশি জাতিগত জনশুমারি বা কাস্ট সেন্সাস পরিচালনা করা হবে। এই তথ্য জানানোর পাশাপাশি তিনি আবারও স্পষ্ট করে দেন যে জাতিগত গণনা হলেও ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণের কোনো সুযোগ সংবিধানে নেই।

অন্যদিকে সংসদের এই বিশেষ অধিবেশনে একাধিক বিল পেশ করাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে বাদানুবাদ চরমে পৌঁছায়। কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল ২০২৬, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল ২০২৬ এবং ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ উত্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে এই পদক্ষেপগুলো ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত। বেণুগোপাল প্রশ্ন তোলেন যে যেখানে সংসদ ইতিমধ্যেই নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম পাসের মাধ্যমে ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করেছে, সেখানে নতুন করে এই বিলগুলো আনার আসল উদ্দেশ্য কী।

বিরোধীদের আপত্তির জবাবে অমিত শাহ বলেন যে বিল পেশ করার প্রাথমিক স্তরে শুধুমাত্র কারিগরি বা প্রযুক্তিগত বিষয়ে আপত্তি তোলা যায়। বিলের গুণাগুণ বা ভেতরের বিষয় নিয়ে এই মুহূর্তে বিতর্কের অবকাশ নেই। তিনি আশ্বাস দেন যে যখন এই বিলগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে, তখন সরকার বিরোধীদের প্রতিটি প্রশ্নের কড়া জবাব দেবে। আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে এই বিলগুলো পেশ করা হয়েছে। ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলা সংসদের এই তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই আইনি পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *