ম্যাপ-যুদ্ধ! চিনের ‘কাল্পনিক’ নামকরণে দিল্লির কড়া জবাব

Spread the news

১৩ এপ্রিল : ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের নাম নেই। বরং অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ‘কাল্পনিক নামকরণ’ এবং বিতর্কিত প্রশাসনিক রদবদল ঘটিয়ে নতুন করে দিল্লির ক্ষোভ উসকে দিল বেজিং। রবিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, চিনের এই ধরনের পদক্ষেপ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বাস্তব পরিস্থিতি ধামাচাপা দিতে ভূখণ্ডে কাল্পনিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ব্যর্থ হবে বলেই কড়া বার্তা দিয়েছে সাউথ ব্লক।

বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ সহ যে অঞ্চলগুলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, তা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। চিন যতই ভিত্তিহীন দাবি বা মানচিত্রে নতুন নাম আরোপ করুক না কেন, তাতে ভারতের সার্বভৌমত্বে কোনো প্রভাব পড়বে না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ধরনের প্ররোচনামূলক কাজ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সূত্রের খবর, গত ২৬ মার্চ বেজিং শিনজিয়াং উইঘুর স্বশাসিত অঞ্চলে ‘সেনলিং’ নামে একটি নতুন প্রশাসনিক কাউন্টি বা প্রদেশ গঠনের ঘোষণা করেছে। কৌশলগতভাবে এই এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং আফগানিস্তান সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। পাশাপাশি কারাকোরাম পর্বতমালার নিকটবর্তী হওয়ায় এটি ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (LAC) পশ্চিম প্রান্তের খুব কাছে।

এটি চিনের প্রথম পদক্ষেপ নয়। এর আগেও শিনজিয়াং অঞ্চলে ‘হিয়াং’ এবং ‘হেকাং’ নামে দুটি প্রশাসনিক এলাকা গঠন করেছিল বেজিং। ভারতের অভিযোগ, লাদাখের কিছু অংশকে সেই মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কয়েক দফায় অরুণাচলের বহু জায়গার নাম বদলে নিজেদের মতো প্রকাশ করেছে চিন। বেজিং এই অঞ্চলকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে দাবি করলেও ভারত শুরু থেকেই তা খারিজ করে আসছে।

দিল্লির সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট যে, সীমান্ত নিয়ে চিনের এই একতরফা পদক্ষেপ ভারতের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। ভবিষ্যতে এমন ‘মানচিত্র বিভ্রাট’ বন্ধ না করলে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *