১১ এপ্রিল : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আজ শনিবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে আছে, তবে লেবাননে ইজরায়েলের অব্যাহত হামলা, হরমুজ প্রণালির সীমিত যান চলাচল এবং উভয় পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তেজনা বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জারেড কুশনার। ভান্স ইসলামাবাদ যাওয়ার আগে বলেছেন, তিনি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছেন এবং ট্রাম্প স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরান যদি আলোচনায় সৎভাবে অংশ না নেয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নেবে।
ইরানের প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। নেতৃত্বে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি না মানলে এবং তাদের সম্পদ অবমুক্ত না করলে চূড়ান্ত সমঝোতা কঠিন হবে।
মূল বিরোধের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনা, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফা শর্ত তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে ইরানের প্রস্তাবে ১০ দফা রয়েছে।
ইসলামাবাদের লাল অঞ্চলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি সেনা, পুলিশ ও প্যারামিলিটারি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং দুই দিনের পাবলিক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই বৈঠককে “মেক অর ব্রেক” বলে অভিহিত করেছেন।
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



