বরাক তরঙ্গ, ৬ এপ্রিল : এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থী হিল্লোল ভট্টাচার্যের সমর্থনে সোমবার কাকরাখাল ও গুমড়া বাজারে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সভায় বক্তব্য রাখেন দলের কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থী হিল্লোল ভট্টাচার্য, আফজল হোসেন মজুমদার ও প্রেমানন্দ দাস। বক্তারা বলেন, নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই বিজেপি দলের নেতারা ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো শুরু করেছেন। এর আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনজীবনের সমস্যাকে আড়াল করা। রাজ্যের জনগণ এখন রন্ধন গ্যাসের সংকটে জর্জরিত। জীবনদায়ী ঔষধ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, বেকার সমস্যা, সরকারি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কার্যালয়ের শূন্যপদ পূরণ না করা ইত্যাদি বিষয়গুলো সুকৌশলে ভোটের সময় আলোচনায় আনা হচ্ছে না। ভোট সর্বস্ব দলগুলোর আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে বিভ্রান্ত ও সত্যকে আড়াল করে ভোট আদায় করা। বক্তারা আহ্বান জানান যে এইসব বিভ্রান্তিতে না ফেঁসে গণ আন্দোলনের পরীক্ষিত দল এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের মনোনীত প্রার্থী হিল্লোল ভট্টাচার্যকে টর্চ লাইট চিহ্নে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।
এছাড়াও আজ সোনাবাড়িঘাট বাজারে সোনাই বিধানসভা কেন্দ্রের এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের মনোনীত প্রার্থী অঞ্জনকুমার চন্দের সমর্থনে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় বক্তব্য রাখেন দলের কাছাড় জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য সুব্রতচন্দ্র নাথ, আলি আফসর আশু চৌধুরী এবং অঞ্জনকুমার চন্দ। বক্তারা বলেন সোনাই বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস ও এজিপি দলের প্রার্থীদের সম্পর্কে জনগণ অবহিত। তারা নিজেদের স্বার্থে বারবার দল বদল করেছেন কিন্তু জনগণের সামনে তারা জনদরদী সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এসব নেতাদের আসল উদ্দেশ্য নিজেদের উন্নয়ন করা জনগণের নয়। তাই বক্তারা গণ আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক অঞ্জনকুমার চন্দকে টর্চ লাইট প্রতীক চিহ্নে ভোট দিয়ে জয়ী করতে আহ্বান জানান।

এ দিন বড়খলা বিধানসভা কেন্দ্রের এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের মনোনীত প্রার্থী শম্পা দে এর সমর্থনে পথসভা অনুষ্ঠিত হয় বড়খলা বাজার, বালিঘাট, ডলু ও শ্রীকোনায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় বক্তব্য রাখেন দলের কাছাড় জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড অজয় রায়, পরিতোষ ভট্টাচার্য এবং প্রার্থী শম্পা দে। তারা বলেন বিজেপি দল জনগণের সামনে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন কাছাড় কাগজ কল চালু করা হবে কিন্তু তা হয় নি, অসমের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী গত নির্বাচনের আগে বলেছিলেন স্থানীয় বেকারদের গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে নিয়োগ করা হবে তাও হয় নি। এখন তারা বলছেন পাঁচগ্রামে ‘ইন্ডাস্ট্রিএল হাভ’ হবে এবং বরাক উপত্যকার বেকার যুবক যুবতীদের জন্য পৃথক টেট পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এসব আসলে ভোটে জয়লাভ করার জন্য বলা হচ্ছে বাস্তবে এগুলো বাস্তবায়ন হবে না। তারা বলেন জনগণের গুরুত্বপূর্ণ দাবি আদায় করা সম্ভব হয় একমাত্র গণ আন্দোলনের মাধ্যমে। তারা গণ আন্দোলনের পরীক্ষিত দল এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) দলের মনোনীত প্রার্থী শম্পা দে কে ভোট দিয়ে জয়ী করতে আহ্বান জানান।

উদারবন্দ বিধানসভা কেন্দ্রের এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) দলের মনোনীত প্রার্থী দিলীপ কুমার রী এর সমর্থনে আজ মধুরা পুল ও ইটখোলা বাজারে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন দুলালী গাঙ্গুলী ও দলের মনোনীত প্রার্থী দীলিপ কুমার রী। তারা বলেন শাসক দলের পক্ষ থেকে কিছু লোককে বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে যাতে বিরোধী দলের প্রচারে বাধা সৃষ্টি করে। কারণ যত সময় যাচ্ছে জনগণের সামনে বিজেপি দলের মিথ্যাচার প্রকাশ পাচ্ছে। তারা বলেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে শাসক দল উঠে পড়ে লেগেছে। তাদের এসব অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জনগণকে জবাব দিতে তারা আবেদন জানান।

শিলচর বিধানসভা কেন্দ্রের এসইউসিআই কমিউনিস্ট দলের মনোনীত প্রার্থী ভবতোষ চক্রবর্তীর সমর্থনে আজ মেহেরপুর, কনকপুর ও চেংকুড়ি বাজারে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় বক্তব্য রাখেন দিলীপ নাথ, স্বাগতা ভট্টাচার্য ও দলের মনোনীত প্রার্থী ভবতোষ চক্রবর্তী। তারা বলেন শহরের জল নিকাশি ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে। অল্প বৃষ্টিতেই শহর প্লাবিত হয়। নোংরা জল অনেকের ঘরে, দোকানে প্রবেশ করে। অথচ এই অবস্থা পাল্টানোর কোন ব্যবস্থা করা হয় না। অনুরূপ শহরের যানজট নিরসনে কোনো পদক্ষেপ নেই। উড়ালপুল তৈরি নিয়ে শহরের জনগণের মধ্যে যে মতানৈক্য রয়েছে তা সমাধানে কোন কিছু করা হচ্ছে না। অথচ শহরের নাগরিকেরা ভোট দিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত করেন। তারা বলেন এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দল এসব সমস্যা সমাধানে নাগরিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। এছাড়াও জনজীবনের প্রতিটি সমস্যা সমাধানে সারা বছর সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। তারা শহরের সমস্যা সমাধানে এবারের নির্বাচনে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের মনোনীত প্রার্থী সংগ্রামী বামপন্থী নেতা ভবতোষ চক্রবর্তীকে টর্চ লাইট প্রতীক চিহ্নে ভোট দিয়ে জয়ী করতে অনুরোধ করেন।



