মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১ এপ্রিল : দক্ষিণ করিমগঞ্জে বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহে প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক সিদ্ধিক আহমেদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা শাহাদত আহমেদ চৌধুরী। সংবাদমাধ্যমের সামনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি প্রাক্তন মন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শাহাদত চৌধুরীর দাবি, দক্ষিণ করিমগঞ্জের মানুষ আর সিদ্ধিক আহমেদের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখছেন না। পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রাক্তন বিধায়ক বিভিন্ন স্তরের প্রার্থীদের সমর্থন করলেও সাধারণ মানুষ তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি, বরং কংগ্রেস প্রার্থীদের বিপুলভাবে জয়ী করেছে। নিলামবাজার ব্লক আঞ্চলিক পঞ্চায়েত গঠনের ক্ষেত্রেও কংগ্রেসের সাফল্যকে তিনি মানুষের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেতা বলেন, এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা শোচনীয়, স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়েছে এবং শিক্ষিত যুবসমাজ কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছে। বড় শিল্প বা কারখানা গড়ে না ওঠায় হতাশা বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলের উন্নয়নেও ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন, বিশেষ করে কালিগঞ্জ চর এলাকার রাস্তার দুরবস্থার কথা উল্লেখ করেন।
পানীয় জল সংকট ও ক্রীড়া অবকাঠামোর অভাব নিয়েও সরব হন শাহাদত চৌধুরী। তাঁর কথায়, এখনও পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানীয় জলের স্থায়ী সমাধান হয়নি এবং একটি মানসম্পন্ন স্টেডিয়াম বা খেলার মাঠও গড়ে ওঠেনি। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তিনি দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, অধিকাংশ উন্নয়নমূলক কাজ প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে করানো হয়েছে, যার ফলে কাজের মানও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এমনকি একটি নির্মীয়মান সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
অসম্পূর্ণ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, লঙ্গাই অঞ্চলের এফএম রেডিও স্টেশন কিংবা সুপ্রাকান্দির প্রস্তাবিত হেলিপ্যাড প্রকল্প আজও বাস্তবায়িত হয়নি, যার দায় তিনি সরাসরি প্রাক্তন মন্ত্রীর উপর চাপান।
সমসাময়িক প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ—মানুষ সবকিছু বুঝতে পারে, তাই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর তাদের বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ অবস্থা থেকে উঠে এসে বিপুল সম্পদের মালিক হলেও এলাকার উন্নয়নে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। এই মন্তব্য ঘিরে দক্ষিণ করিমগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে কংগ্রেসের আক্রমণ, অন্যদিকে প্রাক্তন মন্ত্রীর সমর্থকদের পাল্টা অবস্থান—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সবশেষে শাহাদত চৌধুরী বলেন, “দক্ষিণ করিমগঞ্জের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না, তারা বাস্তব উন্নয়ন চায়।” এখন দেখার বিষয়, এই রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়।



