বরাক তরঙ্গ, ১৯ মার্চ : উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যবাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরেই এবার দলীয় টিকিট থেকে বঞ্চিত হলেন বর্তমান বিধায়ক তথা মন্ত্রী নন্দিতা গার্লোসা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টির অভিযোগে জেলা বিজেপির একাংশ নেতা-কর্মীর মধ্যে নন্দিতার গ্রহণযোগ্যতা কমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই অন্তর্দ্বন্দ্বই তাঁর টিকিট না পাওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে, ১১৩ নম্বর হাফলং জনজাতি সংরক্ষিত আসনের জন্য বিজেপি রূপালি লাংথাসাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তৃণমূল স্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের জন্য পরিচিত রূপালি লাংথাসা একজন তরুণ ও উদ্যমী নেত্রী হিসেবে ইতিমধ্যেই এলাকায় নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। শিক্ষা, সমাজ উন্নয়ন এবং যুব ক্ষমতায়নের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
উল্লেখ্য, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক রূপালি ২০১৫ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। পরে ২০২১ সালে ডিমা হাসাও জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের অধীনে দিয়ুংমুখ আসন থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে পরিষদের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
রূপালি লাংথাসার প্রার্থী ঘোষণা হতেই জেলা বিজেপি কার্যালয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। নেতা-কর্মীরা আনন্দ উদযাপনে মেতে ওঠেন।

এই প্রসঙ্গে দেবোলাল গার্লোসা বলেন, রূপালি একজন তরুণ ও উদ্যমী নেত্রী, যিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের মতো এবারও বিজেপি হাফলং আসনে জয়লাভ করবে, বরং আরও বড় ব্যবধানে। তাঁর কথায়, “এবার রূপালি লাংথাসা অন্তত ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন এবং রাজ্যেও পুনরায় বিজেপি সরকার গঠিত হবে।”
হাফলং আসনে বিজেপি প্রার্থী রূপালি লাংথাসাকে জয়ী করতে সকল স্তরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান দেবোলাল গার্লোসা।
এ দিকে, সূত্রের খবর নন্দিতা গার্লোসা কংগ্রেসের যোগদান করতে যাচ্ছেন।



