১৭ মার্চ : শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে বহুতল থেকে ঝাঁপ দিলেন এক ব্যক্তি। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দু’জনেরই। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, আত্মঘাতী হয়েছেন ওই ব্যক্তি। তবে কী কারণে মেয়েকে কোলে নিয়ে দিয়ে ঝাঁপ দিয়েছেন তার কারণ জানার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের নয়ডার ১০২ নম্বর সেক্টর এলাকার ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম রাহুল বিজয়রণ (৩৫)। তিনি দিল্লির নাংলই এলাকার বাসিন্দা। একটি বেসরকারি স্কুল চালাতেন রাহুল। পরিবার নিয়ে থাকতেন নয়ডার আবাসিক সোসাইটির টাওয়ার ৯-এ থাকতেন তিনি। তবে, অন্য একটি টাওয়ারের ২৩ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন রাহুল। এই কারণেই সন্দেহ বাড়ছে পুলিশের।
পরিবার সূত্রে খবর, কোভিডের সময়ে একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন রাহুল। এই কারণে মনমরা থাকতেন তিনি।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার সকালে সাড়ে ৭টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। ঘরে রাহুলের জন্য রান্না করছিলেন তাঁর স্ত্রী নীতু দাহিয়া। সেই সময়ে ওই সোসাইটির পার্কে খেলছিল তাঁদের ২ বছরের মেয়ে ভামিকা। মেয়েকে নিয়ে রাহুল চলে যান ৫ নম্বর টাওয়ারে। ওই টাওয়ারের ২৩ তলা থেকেই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ঝাঁপ দেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান ওই আবাসনের বাসিন্দারা। সেখানেই চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের ভাই অমিত জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে রাহুল এবং নীতুর বিয়ে হয়। তাঁদের ১১ বছরের একটি মেয়েও আছে। সে দেরাদুনের একটি স্কুলে পড়ে। দেরাদুনের হস্টেলেই থাকে সে। পুলিশকে অমিত জানিয়েছেন, দিল্লির কিরাই এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুল চালান রাহুল। মাস দুয়েক আগে ওই সোসাইটিতে থাকতে শুরু করেন তিনি।

ওই এলাকার পুলিশ আধিকারিক জগমল সিং জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে রাহুল আত্মহত্যা করেছেন। তবে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। কী কারণে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে রাহুল আত্মহত্যা করেন তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন তিনি অন্য একটি টাওয়ার থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।



