বরাক তরঙ্গ, ৩০ জুলাই : শিবসাগর জেলার নাজিরা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বন্যাকবলিত নেপালিখুঁটি গ্রামে কাদা ও পলি অপসারণের কাজ শুরু হতেই সামনে আসছে বন্যার ভয়াবহ চিত্র। আকস্মিক বন্যায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গ্রামটিতে বৃহস্পতিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতদের পরিচয় দিপালী পানীকর, স্মৃতি পানীকর এবং হিলেশ্বরী বড়ো কর্মকার হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ভয়াবহ বন্যার পর থেকে গ্রামটির ২০০-রও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, পুরু কাদা ও পলির স্তরের নিচে এখনও বহু মানুষের দেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে এবং নিজেদের বাড়িঘর পরিষ্কার করতে ফিরে আসা বাসিন্দারাই প্রথম মৃতদেহগুলি দেখতে পান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মৃতদেহ নদীর তীরে পলির স্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল, যেখানে কেবল দুই পা বাইরে দেখা যাচ্ছিল। অপর একটি মৃতদেহ সম্পূর্ণ কাদা ও পলির নিচে চাপা ছিল। হিলেশ্বরী বড়ো কর্মকারের দেহ উদ্ধার করা হয় তাঁর বাড়ির কাছ থেকে।
গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, বাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে তাঁরা দুটি মৃতদেহ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে গ্রামপ্রধান ও পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান।
এদিকে, রঘুবাড়ি এলাকায় দিখৌ নদী থেকেও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

উজানের বন্যার জল অনেকটাই নেমে গেলেও দুর্যোগের ক্ষত এখনও স্পষ্ট। গোটা গ্রামজুড়ে কাদা, পলি, ভাঙাচোরা বাড়িঘর, আসবাবপত্র ও গবাদি পশুর মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। গ্রামে ফিরে আসা বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নিখোঁজ বহু মানুষের সন্ধান এখনও মেলেনি এবং উদ্ধারকাজ এগোলে আরও মৃতদেহ মিলতে পারে।



