বরাক তরঙ্গ, ২৩ জুলাই : বরাক নদী ও এর উপনদীগুলির জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি শুরু করেছে কাছাড় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে শিলচরের ট্রাঙ্ক রোডস্থিত আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে (পিএইচসি) ২৪ ঘণ্টার ফ্লাড কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
কাছাড়ের যুগ্ম স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালকের নির্দেশে অবিলম্বে এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি বন্যাজনিত চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের জন্য ৯৩৯৪৬১৫৪০১ নম্বরের একটি বিশেষ হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোনাই, বড়খলা, দিগরকাশীপুর, ধলাই, লক্ষীপুর, উদারবন্দ ও হরিনগরের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বহুমুখী স্বাস্থ্যকর্মীদের (এমপিডব্লিউ) নিয়ে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। শিফটভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে দিনরাত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল, দুপুর ও রাত—তিনটি পৃথক শিফটে কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে জরুরি ফোনকলের দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের মতে, এই ফ্লাড কন্ট্রোল রুম জেলার বন্যা-সংক্রান্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার কেন্দ্রীয় সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। জনসাধারণের অভিযোগ ও তথ্য গ্রহণ, প্রয়োজনে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যদল দ্রুত পাঠানো, বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা এবং তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হবে এই কেন্দ্রের মাধ্যমে। এর ফলে জলবন্দি ও বন্যাকবলিত এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্যাজনিত চিকিৎসা জরুরি পরিস্থিতি বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোনও প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার, জেলা প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে কাছাড়বাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।



