৬ অক্টোবর : ফ্রান্সে শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের দাবিতে তীব্র আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা। দেশটির বিভিন্ন শহরের উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বয়কট করে রাজপথে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন তারা। আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশের জলকামান ব্যবহার, ধরপাকড় ও সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
গত এক সপ্তাহে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ২১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্ট্রাতসবুর্গে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। লিঁও শহরে সড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে, রেনেস শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।
প্যারিসের ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ তাদের বক্তব্য গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতে সরকার প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ইউনিয়নের দাবি, দেশজুড়ে প্রায় ১,৮০০টি উচ্চবিদ্যালয় পুরোপুরি অবরুদ্ধ বা বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি প্রায় ৯০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সজুড়ে ৮৯১টি স্কুলে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে ক্লাস স্থগিত রয়েছে। এদিকে, সরকারের জন্য শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সরকারি ব্যয় কমানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে একদিকে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং অন্যদিকে সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করাই এখন ফরাসি সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।



