বরাক তরঙ্গ, ২২ জুলাই: অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)-এর মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাজনিত ঘটনায় রাজ্যে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে শিবসাগর জেলায় সর্বাধিক ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চরাইদেউ জেলায় ৫ জন, গোলাঘাটে ২ জন এবং যোরহাটে ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর ফলে চলতি বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে পৌঁছেছে।
এদিকে বন্যায় গোলাঘাট, কামরূপ, হোজাই, ডিব্রুগড়, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, শোণিতপুর, উদালগুড়ি, নগাঁও, চরাইদেউ, কামরূপ (মেট্রো), যোরহাট, তিনিচুকিয়া, কার্বি আংলং, লখিমপুর এবং শিবসাগর-সহ মোট ১৬টি জেলার ৫ লক্ষ ৬৪ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বন্যার জেরে ২৪,২১০.৩৫ হেক্টর কৃষিজমি জলমগ্ন হয়েছে। এছাড়া ৪৪টি রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত ৮৭২টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলায়, যেখানে ৩ লক্ষ ৫৯ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। যোরহাটে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ৮৭,৬৬২, চরাইদেউয়ে ৭২,৬৪৬, ডিব্রুগড়ে ১৮,৬১৫ এবং গোলাঘাটে ১৬,৭৯৯ জন।
বন্যাকবলিত এলাকায় জেলা প্রশাসনের স্থাপিত ২৭৩টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে ১ লক্ষ ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
অন্যদিকে, ভারতীয় সেনাবাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে।
অসমে বন্যায় জেলাভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা:
চরাইদেও জেলায় বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।
শিবসাগর জেলায় বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।
যোরহাট জেলায় বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।
গোলাঘাট জেলায় বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।
ধেমাজি জেলায় মৃতের সংখ্যা ২ জন।
শোণিতপুর জেলায় বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।
কার্বি আংলং জেলায় বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।



