চাম্পাবাড়ি চা-বাগানে যাওয়ার পথে শ্রমিকবাহী মিনি লরি দুর্ঘটনা, আহত ১৭

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৩ এপ্রিল : ইচাবিল এলাকা থেকে প্রতিদিনের মতো একদল শ্রমিক চাম্পাবাড়ি চা-বাগানে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের বহনকারী একটি মিনি লরি বাজারিছড়া অতিক্রম করে শিবেরগুল এলাকায় পৌঁছাতেই ঘটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যে স্বাভাবিক কর্মযাত্রা পরিণত হয় আতঙ্ক ও চিৎকারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকবাহী ম্যাজিক লরিটির সামনে একটি টুকটুক চলছিল। শিবেরগুল এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ টুকটুকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডানদিকে সরে যেতে শুরু করে। সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে মিনি লরির চালক গাড়িটি পাশ কাটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লোয়াইরপোয়া-কানমুন সড়কে লরিটি উল্টে যায়। এতে গাড়ির পেছনে বসে থাকা শ্রমিকরা ছিটকে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন।
এই দুর্ঘটনায় চালক রাজু ভৌমিজসহ মোট ১৭ জন শ্রমিক আহত হন। আহতদের মধ্যে রাজু ভৌমিজ, নরেশ বাউরি, সামারি বাউরি এবং রেখা মুন্ডার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বাজারিছড়া সহায়ক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দ্রুত তাদের মাকুন্দা খ্রিস্টিয়ান লেপ্রসি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যান্য আহতদের বাজারিছড়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আহত এক শ্রমিক জানান, প্রতিদিনের মতোই তারা কাজে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করার পরই গাড়িটি উল্টে যায় এবং সবাই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগান এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেন।

খবর পেয়ে বাজারিছড়া পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি উদ্ধার করে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সামনের টুকটুকের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ইচাবিল জিপি সভানেত্রীর প্রতিনিধি রতন কুর্মি ও লোয়াইরপোয়া জেলা পরিষদ সদস্য স্বপন দাস হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। তারা আহতদের পরিবারকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শ্রমিক পরিবহনে আরও নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *