বড়খলার গ্যাস বটলিং প্ল্যান্টের দুই ভেসেল বিকল, শাটডাউন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্ল্যান্টে সাংসদ-বিধায়ক

Spread the news

মান্তু নাথ, বড়খলা।
বরাক তরঙ্গ, ২৪ আগস্ট :
বরাক উপত্যকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জারইলতলা গ্যাস বটলিং প্ল্যান্টকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তিনটি গ্যাস ভেসেলের মধ্যে দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। এতদিন একটি ভেসেলের ওপর নির্ভর করেই কোনওরকমে চলছিল বটলিংয়ের কাজ। এবার সেই ভেসেলেরও মেয়াদ শেষের মুখে। এরই মধ্যে ছয় মাসের জন্য প্ল্যান্ট শাটডাউনের সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সোমবার জারইলতলা গ্যাস বটলিং প্ল্যান্টে পৌঁছান রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ ও বড়খলার বিধায়ক কিশোর নাথ। তাঁরা প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। জিজিএম রাজজ্যোতি দাস এবং প্ল্যান্ট ম্যানেজার পি. চাকমার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা করে শাটডাউনের কারণ, ভেসেলগুলির বর্তমান অবস্থা এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন তাঁরা।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনটি ভেসেলের মধ্যে দুটি বিকল এবং বর্তমানে চালু থাকা তৃতীয় ভেসেলটিরও মেয়াদ শেষের পথে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থেই সাময়িকভাবে প্ল্যান্টের কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শাটডাউনের সময় বিকল দুটি ভেসেল সংস্কারের পাশাপাশি চালু থাকা ভেসেলটির কার্যক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে।

তবে ছয় মাসের শাটডাউনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় গুজব ছড়ায়, জারইলতলা গ্যাস বটলিং প্ল্যান্ট নাকি স্থায়ীভাবেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই গুজবকে কেন্দ্র করে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ ও বিধায়ক কিশোর নাথ বলেন, ছয় মাসের শাটডাউন হলেও শ্রমিকদের সঙ্গে কোনও ধরনের অন্যায় হতে দেওয়া হবে না। কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, শ্রম আইন অনুযায়ী শাটডাউন চলাকালীন কর্মীদের প্রাপ্য ভাতা প্রদান করা হবে।

এদিকে, প্রশ্ন উঠছে, গত দুই বছর ধরে দু’টি গ্যাস ভেসেল বিকল থাকার পরও কেন সময়মতো সেগুলির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলো না? একটি ভেসেলের ওপর নির্ভর করে এতদিন গুরুত্বপূর্ণ এই প্ল্যান্ট কীভাবে চালানো হলো? এখন শেষ ভরসার ভেসেলটির মেয়াদ শেষের মুখে এসে কেন ছয় মাসের শাটডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে হলো?
সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ ও বিধায়ক কিশোর নাথের বক্তব্য, বিজেপি সরকারের আমলে বরাক উপত্যকায় শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জারইলতলার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকা কোনওভাবেই কাম্য নয়।

সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জারইলতলা গ্যাস বটলিং প্ল্যান্টকে পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

ছয় মাসের শাটডাউন কি শুধুই সংস্কারের সাময়িক পদক্ষেপ, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় কোনও সংকট? জারইলতলা গ্যাস বটলিং প্ল্যান্টকে ঘিরে এখন বরাক উপত্যকায় এই প্রশ্নই জোরালো হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *