এনকাউন্টারে খতম হওয়া সাইদুল মাদক পাচার থেকে গাড়িচোরের সর্দার, উত্তর-পূর্বজুড়ে ছিল তার বিস্তার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৪ সেপ্টেম্বর : গুয়াহাটি সংলগ্ন সোনাপুর থানা এলাকার মরকদলায় পুলিশের এনকাউন্টারে হত দু’জনের মধ্যে সাইদুল আলম লস্করের পৈত্রিক বাড়ি শিলচর থানা এলাকার দক্ষিণ কৃষ্ণপুরে। সাইদুলের বিরুদ্ধে শিলচর সহ কাছাড়ের বিভিন্ন থানায় বেশ কিছু মামলা রয়েছে। ২০১০ সালে শিলচর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল শহরের ক্লাব রোডের এক হোটেল থেকে। সাইদুল সম্পর্কে জানা গেছে, দক্ষিণকৃষ্ণপুরে তার পৈতৃক বাড়ি হলেও সে মায়ের সঙ্গে সোনাই কাজিডহর বেরাবাকে মামার বাড়িতে থেকে বড় হয়েছিল। শৈশবকালে মা ও বাবার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর মায়ের সঙ্গে চলে যায় বেরাবাকে মামার বাড়িতে। মামার বাড়িতে থেকে বড় হলেও অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়ানোর পর সেখানেও সে খুব বেশি থাকতো না। ঘোরাঘুরি করতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে। আর এ জেলায় এলে বেশিরভাগ সময় থাকতো ধলাই থানা এলাকার ভাগাবাজারে।

সাইদুলের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, এ জেলায় কুখ্যাত দাস গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে অপরাধে তার হাতেখড়ি হয়। এ সবের মাঝে তার সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে সোনাইর এক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। ওই ব্যক্তি একসময়ে পঞ্চায়েত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। এর সূত্রে মণিপুরের অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠে সাইদুলের। এভাবে বরাক উপত্যকার গণ্ডি ছাড়িয়ে সাইদুল জড়িয়ে পড়ে মণিপুরের গাড়ি চোর চক্রের সঙ্গেও। ধীরে ধীরে উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে তার জাল। ২০১০ সালে শিলচর পুলিশ যখন তাকে শহরের ক্লাব রোডের হোটেল থেকে গ্রেফতার করেছিল তখন শিলং পুলিশ সেখানকার এক মামলার সূত্রে নিয়ে গিয়েছিল তাকে।

এদিকে, সাইদুলের মৃত্যুর খবর এখানে এসে পৌঁছার পর তার পৈতৃক বাড়ি শিলচর দক্ষিণ কৃষ্ণপুর বা সোনাই কাজিডহর বেরাবাক যেখানে সে বড় হয়েছিল মামার বাড়িতে, সেই দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে কোনও হেলদোল নজরে পড়েনি। প্রতিবেশীদের কেউই এনিয়ে কোনও আগ্রহ দেখাননি। ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞেস করলে অবজ্ঞা সূচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রতিবেশীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *