বরাক তরঙ্গ, ৪ সেপ্টেম্বর : ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং ১১ দফা দাবি পূরণের দাবিতে ফের ৭২ ঘণ্টার ত্রিপুরা বনধের ডাক দিয়েছে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি সংগঠন জেএআরসি ও জেএসি। একই দাবিতে আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন জঙ্গি সংগঠন এনএলএফটি ও এটিটিএফের পক্ষ থেকেও আন্দোলনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর জেরে শুক্রবার সকাল থেকেই রাজ্যের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের ঘোষণামতো বড়মুড়া পাহাড় এলাকায় জাতীয় সড়ক, ভূগুদাসে রেলপথ এবং খোয়াই চৌমুহনীতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। সকাল থেকেই আগরতলা-হেজামারা জাতীয় সড়কের খোয়াই চৌমুহনী এলাকা এবং বরমুড়া পাহাড় চত্বরে অবরোধ শুরু হয়। ফলে জাতীয় সড়কে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও ছোট যানবাহন আটকে পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে রেলপথ অবরোধের জেরে ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। এতে দূরদূরান্তের যাত্রী ও নিত্যযাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। আন্দোলনকারীরা রাস্তার উপর টায়ার ও কাঠ জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বরমুড়া, খোয়াই চৌমুহনীসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে, আন্দোলনস্থল থেকে এক প্রাক্তন বৈরী নেতা প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাঁদের দাবিগুলি উপেক্ষা করা হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন জঙ্গিদের পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা এবং ১১ দফা দাবি পূরণে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ও পরিবহণ পরিষেবায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।



