ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত, সেনা মোতায়েন বাড়ছে ২০২৭ পর্যন্ত

Spread the news

৪ সেপ্টেম্বর : ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের মোতায়েন ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের এই পদক্ষেপকে সংঘাত মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা এবং ১৯টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরি ও ১৩টি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে। পাশাপাশি বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট, যুদ্ধবিমান ও প্যারাট্রুপারদেরও ওই অঞ্চলে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু মার্কিন বাহিনীর মোতায়েনের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের পাশাপাশি প্রয়োজনে আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে ওয়াশিংটন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের উদ্দেশ্য হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরবর্তী পদক্ষেপ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সামরিক বিকল্প হাতে রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তা এবং ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় অবরোধ কার্যকরের মতো মিশনে রয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ সাল পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ শেষ ঘোষণা করার বিষয়েও আলোচনা করেছেন। তিনি অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখে ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েও ভাবছেন।

এদিকে, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েন নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বাহিনী মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েও শেষ পর্যন্ত আদেশ বাস্তবায়ন করছেন।

ফলে একদিকে সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
তথ্যসূত্র : দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *