বিজেপিকে তুষ্ট করতে মরিয়া জেডপিএম : মিজোরাম প্রদেশ কংগ্রেস সহ-সভাপতি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৬ অক্টোবর : বিজেপিকে তুষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা এখন এতটাই বেড়েছে যে শুধু মুখ্যমন্ত্রী হলেই চলবে না, দলীয় সভাপতিকেও বিজেপির আস্থা অর্জন করতে হবে। এমনই মন্তব্য করলেন মিজোরাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (MPCC) সহ-সভাপতি জন সিয়ামকুঙ্গা। শুক্রবার মিজোরাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির রাজনৈতিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে জেডপিএম সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।

জন সিয়ামকুঙ্গার অভিযোগ, মিজোরামের বাজেট পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী SASCI প্রকল্প থেকে ১,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের অধীনে মাত্র ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ফলে ৯০০ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, জেডপিএম সরকারের ভুল আর্থিক ব্যবস্থাপনাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এর জন্য অন্য কাউকে দোষারোপ করা যায় না।

তিনি আরও জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে SASCI প্রকল্পের অধীনে ২৩৩ কোটি টাকা এবং পরবর্তী অর্থবর্ষে আরও ১১১ কোটি টাকা অব্যবহৃত থেকে যায়। সব মিলিয়ে ৩৪৪ কোটি টাকা খরচ করতে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। জন সিয়ামকুঙ্গার মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতি এমন বার্তাই দেয় যে রাজ্যের ওই অর্থের প্রয়োজন ছিল না। সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অদক্ষতার মাশুল এখন রাজ্যের মানুষকে গুনতে হচ্ছে।

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপিকে তুষ্ট করার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর কটাক্ষ, বিজেপির আস্থা অর্জন করতে হলে শুধু মুখ্যমন্ত্রী হওয়াই যথেষ্ট নয়, দলীয় সভাপতিকেও বিজেপির কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক ও সচিবদের সমর্থনও নিশ্চিত করতে হবে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সেই প্রস্তাব রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির (PAC) অনুমোদন পায়নি বলেও জানান জন সিয়ামকুঙ্গা।

রাজ্যের ঋণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর বক্তব্য, মিজোরামের বাজেটের তুলনায় ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী বছরে রাজ্যের ঋণের বোঝা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে মিজোরামের প্রতিটি পরিবার আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতেও কি জেডপিএম সরকারকে প্রশংসা করে যেতে হবে? সাধারণ মানুষের স্বার্থে যাঁরা দাঁড়াতে পারছেন না এবং কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সাহস দেখাচ্ছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *