জগন্নাথ সিং কলেজে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল দ্বারা ব্যাস পূজা আয়োজিত

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৭ আগস্ট : ভারতীয় শিক্ষণ মন্ডল কাছাড় জেলা সমিতি দক্ষিণ আসাম প্রান্ত ও জগন্নাথ সিং কলেজ উধারবন্দ এর যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে ব্যাস পূজার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সোমনাথ দেব। স্বাগত ভাষণ রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ সমরেন্দ্র সিংহ। প্রাস্তাবিক ভাষণ রাখেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডঃ কিংশুক নাথ।

এদিনের অনুষ্ঠানে মূখ্য বক্তা রূপে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল দক্ষিণ আসাম প্রান্তের কার্যকারী সদস্য ড. সুপর্ণা রায়। ধ্যয় বাক্য, ধ্যয় শ্লোক ও সংগঠন গীত পরিবেশন করেন শিক্ষণ মণ্ডলের দক্ষিণ অসম প্রান্তের মহিলা প্রমুখ তথা ব্যাস পূজা সমিতির মহিলা সদস্য ড. মুন্নি দেব মজুমদার। 

এদিন শুরুতে প্রদীপ প্রজ্জোলন, দীপজ্যোতি মন্ত্র ও পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। কলেজের ছাত্রী বন্দনা রায় নৃত্যের মাধ্যমে গুরু বন্দনা উপস্থাপন করে। ড. কৌশিক নাথ তার বক্তব্যে গুরু পূর্ণিমার মাহাত্ম্যের কথা, ও ভারতবর্ষে শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে গুরুর মাহাত্যর কথা তুলে ধরেন। মুখ্য বক্তা হিসেবে অধ্যাপক ড. সুপর্ণা রায় তার বক্তব্যে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের সূচনা, উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ডের কথা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি বলেন কিভাবে মেকলের প্রচলিত শিক্ষার প্রভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ভারতীয়তাকে দূরে সরিয়ে রাখার প্রচেষ্ঠায় আমরা নিজের অস্তিত্ব বোধকে হারিয়ে ফেলতে বসেছি। ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল সেই ভারতীয়তাকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার কাজে নিবেদিত প্রাণ। ব্যাস পূজা ভারতীয় গৌরবময় গুরু পরম্পরার এক অনন্য নিদর্শন। প্রাচীন ভারতবর্ষে শুধু ছাত্রছাত্রীদের মস্তিষ্কের বিকাশের উপরই জোর দেওয়া হত না। শিক্ষা ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক, মানসিক, বৌদ্ধিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের এক স্বাভাবিক পরিকাঠামো।

অনুষ্ঠানে সোমনাথ দেবকে উনার সুদীর্ঘ শিক্ষকতার গৌরবময় যাত্রার ও সমাজের সার্বিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকার জন্য বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সভাপতির ভাষণে শ্রীযুক্ত দেব ভারতীয় গুরু পরম্পরার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ গুলো একে একে তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে কিভাবে এই গুরু পরম্পরার জন্য ভারতীয় সংস্কৃতির প্রবাহ আজও সমহিমায় বয়ে চলেছে। পৃথিবীর অনেক প্রাচীনতম সভ্যতা যেখানে বিলুপ্ত সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি অসংখ্য ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়েও নিজের অস্তিত্বকে ধারণ করে রাখতে যে সক্ষম তার একটি মূল কারণই হচ্ছে গুরু শিষ্য পরম্পরার ধারাবাহিকতা। তিনি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এরূপ গুরু পূর্ণিমা উদযাপন ও তার প্রেরণাদায়ী প্রভাব ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে এগিয়ে আসার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানটি সুচারু রূপে সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপিকা যথাক্রমে ড. বাসবি পাল ও ড. নন্দিতা দাস। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহকারি অধ্যাপিকা ড. গীতশ্রী দেব। কল্যাণ মন্ত্র ও জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *