বরাক তরঙ্গ, ৩০ জুলাই : ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল, কাছাড় জেলা সমিতি (দক্ষিণ আসাম প্রান্ত)-এর সহযোগিতায় কাবুগঞ্জ জনতা কলেজে বৃহস্পতিবার পবিত্র গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে ব্যাস পূজার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে কলেজের উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের জন্য নির্মিত নতুন শিক্ষাভবনেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল, দক্ষিণ আসাম প্রান্তের সভাপতি এবং গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় ফিতে কেটে ও ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে নতুন শিক্ষাভবনের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. সুপ্রবীর দত্তরায়, জনতা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি শ্রী মোহন সিংহ এবং কলেজের অধ্যক্ষ ড. দেবাশীষ পাল। গুরু পূর্ণিমা এবং নতুন শিক্ষাভবনের উদ্বোধনের এই সমাপতন ভারতীয় সংস্কৃতির প্রাচীন গুরু-শিষ্য পরম্পরার চিরন্তন গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং শিক্ষা ও সংস্কারের সমন্বয়ের এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

অনুষ্ঠানে কাছাড় জেলার সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আজীবন নিঃস্বার্থ অবদানের জন্য দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সংবর্ধনা জানানো হয়। প্রথম সম্মানপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন রঞ্জিত সিনহা। তিনি এই অঞ্চলে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রচার ও প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি একটি সঙ্গীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে গত প্রায় তিন দশক ধরে এই ঐতিহ্য ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। তাঁর বহু ছাত্রছাত্রী দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন বর্তমানে লখনউয়ের ভাতখণ্ডে সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বিতীয় সম্মানপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক প্রভাষচন্দ্র নাথ। তিনি প্রায় সাতটি গবেষণাগ্রন্থ এবং একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় লোকসাহিত্য। পাশাপাশি জীবনানুভবের ভিত্তিতে তিনি বহু কবিতাও রচনা করেছেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় ভারতের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরু-শিষ্য পরম্পরার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুপর্ণা রায়, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. সুপ্রবীর দত্তরায়, জনতা কলেজের অধ্যক্ষ ড. দেবাশিস পাল, গভর্নিং বডির সভাপতি মোহন সিংহ সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ড. সুদীপ্তা খেরসা, ড. উষারানি শর্মা, ড. নিরেন্দ্র সিংহ, ড. রুমি দাস, ড. কিংশুক চক্রবর্তী, ড. শ্রীমা নাথ মজুমদার, ড. প্রদীপ সিংহ, সোমা ভট্টাচার্য, সুজাতা পালিত সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সাফল্যের সঙ্গে সঞ্চালনা করেন ড. মুন্নি দেব মজুমদার।



