চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি: নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

Spread the news

২৮ মে : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, ঠিক তখনই দুই দেশের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এলো সম্পূর্ণ ভিন্ন ও সাংঘর্ষিক বক্তব্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চলমান আলোচনার ফলস্বরূপ ইরানকে কোনও ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে না।

বুধবার ওয়াশিংটনে এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছি না।”

একই দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘পিবিএস নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুত হস্তান্তর করতে সম্মত হবে, তবে এর বিনিময়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। এর আগে গত সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের আনুমানিক ৪৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসে ধ্বংস করা হবে, অথবা ইরানের ভেতরেই তা ধ্বংস করতে হবে। তবে তেহরান ট্রাম্পের এই দাবি শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই তাদের পারমাণবিক উপাদান হাতছাড়া করবে না।

১২ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতির আলোচনা চালালেও পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা, ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়ে গেছে।

ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প ইরানকে একটি ‘পরাজিত শত্রু’ হিসেবে চিত্রায়িত করে বলেন, “তারা চুক্তি করতে খুবই মরিয়া। তবে বর্তমান আলোচনার অগ্রগতিতে আমরা সন্তুষ্ট নই। হয় তারা আমাদের শর্ত মানবে, নতুবা আমাদের এই কাজ (সামরিক অ্যাকশন) পুরোপুরি শেষ করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে তিনি চিন্তিত নন এবং ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।

এর আগে বুধবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন (আইআরআইবি) একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক (MOU) প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, চুক্তির অংশ হিসেবে ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও ফি আদায়ের দায়িত্ব ওমান ও ইরানের যৌথ তত্ত্বাবধানে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *