২৫ জুন : ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশজুড়ে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রিখটার স্কেলে সাতের বেশি মাত্রার এই দুই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে স্কুল, রেল ও মেট্রো পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার ভূমিকম্পের পর শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মেট্রো ও রেল চলাচল বন্ধ রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার জেনারেলকে।
তিনি আরও জানান, রাজধানী কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার মাইকুয়েতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপে এলাকায় ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণ পর রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমার অঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
পরপর দুই ভূমিকম্পে বিভিন্ন এলাকায় ভবন, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এ ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত সরকারিভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও সামরিক বাহিনী।



