বরাক তরঙ্গ, ৯ আগস্ট : ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান এবং ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে রবিবার শিলচরে আয়োজিত হল বর্ণাঢ্য তিরঙ্গা বাইক র্যালি। কাছাড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা পুলিশ ও জেলা পরিবহণ বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত এই র্যালিতে সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন।
জেলা আয়ুক্তের কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি রাঙ্গিরখাড়ি, নেতাজি মূর্তি-সহ শিলচর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকা পরিক্রমা করে পুনরায় জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে বাইক আরোহীদের এই র্যালিতে শহরের রাজপথে ফুটে ওঠে দেশাত্মবোধের আবহ।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান ও গৌরবের অনুভূতি আরও সুদৃঢ় করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
এদিকে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কাছাড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আগামী ১০ থেকে ১৪ আগস্ট জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অঙ্কন, প্রবন্ধ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও বিভিন্ন জনপরিসরে চলবে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ১৪ আগস্ট গান্ধী ভবনে প্রতিযোগিতাগুলির চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১২ আগস্ট গান্ধীবাগ পার্কে তিরঙ্গা র্যালির পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হবে। ১২ ও ১৩ আগস্ট জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন খণ্ডে প্রভাতফেরি ও র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকাতেও ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে আরও ব্যাপক করে তুলতে তিরঙ্গা স্টল, বিক্রয় কার্যক্রম এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৩ আগস্ট জেলার বিভিন্ন স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়, ব্লক ও সার্কেল অফিস-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের কর্মসূচি রয়েছে।
তিরঙ্গা বাইক র্যালিতে কাছাড়ের বরিষ্ঠ পুলিশ অধীক্ষক সঞ্জীবকুমার শইকিয়া, অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেবিডকুমার বরা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) রজতকুমার পাল, সহকারী আয়ুক্ত ভাস্কর চৌধুরী, জেলা পরিবহণ আধিকারিক, জেলা সাংস্কৃতিক উন্নয়ন আধিকারিক স্নেহাংশু শেখর রায়-সহ অন্যান্য সরকারি আধিকারিক ও সাধারণ নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও সামাজিক সংগঠনগুলিকে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে সকলকে সামিল হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।



