শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পালংঘাটে উদ্যোগ ‘মাই ভারত’ ও মাতা সংঘ ক্লাবের
দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুলাই : ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শ, জীবনসংগ্রাম ও দেশগঠনে তাঁর ভূমিকা বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। সোমবার পালংঘাটে ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য। এ দিন ‘মাই ভারত’ কাছাড় জেলার উদ্যোগে এবং পালংঘাট মাতা সংঘ ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় নন্দগ্রাম কমিউনিটি হলে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনে ড. মুখার্জীর অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য। তিনি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শ, জীবনসংগ্রাম ও দেশগঠনে তাঁর ভূমিকা বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন। বলেন, দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান ব্যক্তিত্বদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়েই প্রকৃত দেশপ্রেমের বিকাশ সম্ভব। একইসঙ্গে তরুণদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ড. মুখার্জির জীবন ও কর্ম নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিজেপির কাছাড় জেলা সভাপতি রূপমা সাহা এবং মধ্য ধলাইয়ের প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য শশাঙ্কচন্দ্র পাল। তাঁরা বলেন, দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠায় ড. মুখার্জির অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে যুবসমাজকে দেশগঠনে এগিয়ে আসতে হবে।
মাতা সংঘ ক্লাবের সহ-সভাপতি অমিত শর্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্পাদক রাজীব দে। অনুষ্ঠানের সূচনায় প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্বলনের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দেওয়া হয়।
এছাড়া ড. মুখার্জির জীবনভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় বহু ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পরে পালংঘাট এলাকায় বর্ণাঢ্য শুভযাত্রা বের করা হয়। অনুষ্ঠানে কৃষ্ণজীবন দেবনাথ, অনুপ নাথ, রাজীব সিনহা, অলক চন্দ, দীপু রায়, সাহানুর আলমসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।



