তৃণমূলের নাম-প্রতীক ‘ফ্রিজ’, কমিশনকে নিশানা রাহুলের

Spread the news

১৮ সেপ্টেম্বর: তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের পর কালীঘাটের তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে সরব হয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

রাহুলের অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপির ক্ষেত্রে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, তৃণমূলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ‘ছক’ অনুসরণ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে কাজ করে দল ভাঙা এবং নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “ভোটচুরি, সরকারচুরি, এখন দলচুরি”—এগুলি দেশের গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের প্রতীক হয়ে উঠছে। কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান করা কমিশনের দায়িত্ব। তাঁর দাবি, এই লড়াই শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়, দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও ভোটারের।
উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূলের নাম ও ‘ফুল-ঘাস’ প্রতীক আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির—দুই পক্ষই উপনির্বাচনে পৃথক নাম ও কমিশনের তালিকাভুক্ত মুক্ত প্রতীক নিয়ে লড়বে। দুই পক্ষকে নতুন নাম ও প্রতীকের পছন্দ জানাতেও বলা হয়েছে।

৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। কমিশন জানিয়েছে, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে মূল বিরোধের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের পথচলা শুরুর পর এই প্রথম উপনির্বাচনে দলটির পরিচিত নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার না করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দুই শিবিরই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *