দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৭ মে : মহান উনিশে মে ভাষা শহিদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত “উনিশের মহামিছিল”-এ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের আহ্বান জানাল ১৯শে মে মহামিছিল কমিটি। রবিবার শিলচরের এক হোটেলে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে কমিটির কর্মকর্তারা জানান, এই মহামিছিলে শতাধিক স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক, শ্রমিকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেবেন।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৭টায় শিলচর রেলস্টেশন থেকে মহামিছিল শুরু হবে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এই রেলস্টেশন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ বরাকে বাংলাকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে এখানেই আত্মবলিদান দিয়েছিলেন ১১ জন সত্যাগ্রহী। পরে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে শেষ হবে শিলচর শ্মশানঘাটে, যেখানে ভাষা শহিদদের দাহ করা হয়েছিল।
মহামিছিলের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কমিটির আহ্বায়ক সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, গত কয়েক বছরে ১৯ মে-র অনুষ্ঠানগুলোতে মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে সকালে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে জনসমাগম খুব একটা দেখা যায় না। তাই নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করাতে এবং শহিদদের স্মরণে বৃহত্তর পরিসরে একটি ঐক্যবদ্ধ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “১৯শে মে শুধু বাংলা ভাষার আন্দোলন নয়, এটি প্রতিটি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক। তাই সব ভাষাভাষী মানুষের অংশগ্রহণে এই মিছিল সফল হোক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আশীষ ভৌমিক বলেন, উনিশের বার্তা বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এই মহামিছিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরী বলেন, “আমরা উনিশের উত্তরাধিকার বহন করছি। তাই এই মিছিল সফল করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
সমাজকর্মী স্বর্ণালী চৌধুরী বলেন, উনিশে মে শুধু একটি স্মরণ দিবস নয়, বরং আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার দিন। বিশিষ্ট সমাজকর্মী দীপক সেনগুপ্তের মতে, “১৯ আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা দরকার।”
সমাজকর্মী সঞ্জীব রায় বলেন, এই মিছিলকে কেন্দ্র করে বহুভাষিক বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের এক অনন্য ছবি ফুটে উঠছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মিছিলটি সফল হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার চিত্রভানু ভৌমিক, সুপ্রভা রাজকুমারী, চয়ন ভট্টাচার্য, বিনায়ক চৌধুরী, কৃশানু ভট্টাচার্য, জয়দীপ চক্রবর্তী, অরুন্ধতী গুপ্ত, ভাস্কর দাস, সোনালী বণিক, প্রসেনজিৎ পাল, অজয় পাল, দিলীপ সিং, পঙ্কজ কান্তি দে, কৃষানু শীল, জামিলুর রহমান, মৌটুসী বিশ্বাস, কাজল কর্মকারসহ বহু সাংস্কৃতিক কর্মী ও সমাজসেবী।
মিছিল উপ-সমিতির আহ্বায়ক বিনায়ক চৌধুরী সকলের প্রতি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে মহামিছিলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।



