দুই মাস ধরে বন্ধ চুনাপাথর বোঝাই টিপার, ক্ষতির মুখে হাজারো পরিবার

Spread the news

শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ১ সেপ্টেম্বর : প্রায় দুই মাস ধরে পুলিশের নিষেধাজ্ঞার জেরে চুনাপাথর বোঝাই ১০ ও ১৬ চাকার টিপার চলাচল বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন টিপার মালিক, চালক, মেকানিকসহ সংশ্লিষ্ট পেশার হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বরাক উপত্যকা, ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশমুখী চুনাপাথর পরিবহন ও রপ্তানি কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ টিপার মালিকদের।

অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কাটিগড়ার সার্কল অফিসারকে স্মারকপত্র টিপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের, ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে কাটিগড়ার সার্কল অফিসারের কাছে স্মারকপত্র প্রদান করেছে টিপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৬০০টি ১০ ও ১৬ চাকার টিপার কার্যত অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে টিপার মালিক, চালক, মেকানিকসহ এক হাজারেরও বেশি মানুষের জীবিকায়। পাশাপাশি চুনাপাথরের ব্যবসা ও পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, ক্রাশার মালিকসহ পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ পরোক্ষভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি সংগঠনের।

টিপার মালিকদের অভিযোগ, কালাইন থেকে চুড়াইবাড়ি পর্যন্ত চুনাপাথর পরিবহনের ক্ষেত্রে ১০ ও ১৬ চাকার টিপার বন্ধ রাখা হলেও অন্যান্য ধরনের পাথর বোঝাই ভারি যানবাহন নিয়মিত চলাচল করছে। এতে একই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত যানবাহনের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
দীর্ঘদিন ধরে টিপার চলাচল বন্ধ থাকায় মালিকদের উপর ক্রমেই বাড়ছে আর্থিক চাপ। একদিকে গাড়ির ঋণের ইএমআই, অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য আর্থিক দায়বদ্ধতা – সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে বলে দাবি অ্যাসোসিয়েশনের। তাঁদের বক্তব্য, গাড়ি রাস্তায় না চললেও নিয়মিত আর্থিক দায়ভার বহন করতে হচ্ছে মালিকদের।

সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আগামী দিনে রাস্তায় চলাচলকারী অন্যান্য অতিরিক্ত ভারবাহী পাথরবোঝাই টিপারের বিরুদ্ধেও তাঁরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে ১২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

টিপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের হুঁশিয়ারি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তাঁরা নিজেরাই পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। দীর্ঘ দুই মাস ধরে গাড়ি বন্ধ থাকায় যে আর্থিক দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আর নীরব থাকা সম্ভব নয় বলেই দাবি সংগঠনের।
এখন প্রশাসন এই জটিলতার কীভাবে সমাধান করে এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চুনাপাথর পরিবহনে কবে স্বাভাবিকতা ফিরে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *