জীবদ্দশায় যাঁরা জুবিনকে যথাযথ সম্মান দেননি, তাঁরাই মৃত্যুর পর রাজনীতি করেছেন : মুখ্যমন্ত্রী

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৬ মে : নির্বাচনের আগে হার্টথ্রব জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে কে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চেয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জীবদ্দশায় যাঁরা জুবিনকে যথাযথ সম্মান দেননি, তাঁরাই মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে রাজনীতি করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মঙ্গলবার চলতি অসম বিধানসভার অধিবেশনে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।

বিধানসভায় জুবিন গার্গের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই নির্বাচনে ছিল ‘মায়াবিনী’ আর ‘দয়াবিনী’র লড়াই। জুবিনের গান, শিল্প এবং জীবন আগামী বহু প্রজন্মের যুবক-যুবতীদের অনুপ্রাণিত করবে। কিন্তু আজ যারা তাঁকে নিয়ে রাজনীতি করছে, তারাই একসময় তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি সবসময় বলেছি, জুবিন অসমের সম্পদ।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে সমাজে দুই ধরনের মানুষের সৃষ্টি হয়েছিল। একদল জীবিত অবস্থায় জুবিনকে সম্মান করেছে, আরেকদল মৃত্যুর পর তাঁকে ব্যবহার করতে চেয়েছে। যাঁরা একসময় কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন, তাঁরাই পরে নির্বাচনের সময় জুবিনের সমাধিতে গিয়ে রাজনীতি করেছেন। দুঃখজনকভাবে তাঁদের মুখে ‘মায়াবিনী’ নয়, বেরিয়েছিল ‘দয়াবিনী’।”

বাংলাদেশি শিল্পীদের এনে অনুষ্ঠান করার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা একসময় অন্য শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান করত, তারাই রাতারাতি জুবিন গার্গের সমর্থক সেজে উঠেছিল। বরপেটার বহু এলাকায় জুবিনের অনুষ্ঠান না হলেও তাঁর সমাধিক্ষেত্রে বাসে বাসে মানুষ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা কোথাও যেন ‘মায়াবিনী’দের পিছনে ফেলে দিয়েছিলাম, আর ‘দয়াবিনী’রা এগিয়ে গিয়েছিল। তারা সমাধিক্ষেত্র দখল করে নিয়েছিল, অথচ এখন সেখানে আর কাউকে দেখা যায় না।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে বিধানসভায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিরোধী শিবিরের একাধিক বিধায়ক বরপেটায় জুবিন গার্গের অনুষ্ঠান হওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে সমাজে বিভাজন না তৈরির আহ্বান জানান। এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভাগ করাই আমার কাজ। আমি ভাগ করি—প্রকৃত অসমীয়া আর বাংলাদেশি। এই বিভাজন চলতেই থাকবে। আপনারা ইউসিসিকে সমর্থন করুন।”

কোনও দলের নাম না করলেও কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী ইস্তাহারে জুবিন গার্গকে ব্যবহার করেছিল। ভোটের দিন টেবিলে তাঁর ছবি রাখা হয়েছিল। নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের সামনে তাঁর ছবি টাঙানো হয়েছিল। কিন্তু অসমের মানুষ তার জবাব দিয়েছে। জুবিন গার্গকে নিয়ে রাজনীতি করবেন না, তিনি মানুষের সম্পদ।”

শেষে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এই নির্বাচন অসমবাসীকে দুটি বড় শিক্ষা দিয়েছে। তাঁর কথায়, “অসমের মানুষ জাতীয় জীবনের মহান ব্যক্তিত্বদের নিয়ে রাজনীতি মেনে নেয় না। জুবিন গার্গের নাম ভর করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখার দরকার নেই। মানুষ সব বুঝে গিয়েছে। পাশাপাশি এই নির্বাচন আরও শিখিয়েছে যে রাজনীতিতে অহংকারের কোনও স্থান নেই। লোকসভা নির্বাচনের সাফল্য থেকেই অহংকারের জন্ম হয়েছিল, আর তার ফলেই বিধানসভায় পরাজয় দেখতে হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *