তিন ঘণ্টাতেই শেষ স্কুলের কাজকর্ম, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসী

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩ নভেম্বর : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঠনপাঠনের সময়সূচি নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠল হাইলাকান্দিতে। অভিযোগ, সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বিদ্যালয়ে আসছেন শিক্ষকরা। আবার দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্কুল। ফলে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হচ্ছে পঠনপাঠন থেকে শুরু করে মিড-ডে মিল বিতরণের যাবতীয় কাজ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি লালা শিক্ষা খণ্ডের অন্তর্গত ৭৩৬ নম্বর লক্ষ্মীনগর এলপি স্কুলের। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম-সহ মোট পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। পড়ুয়ার সংখ্যা ৯৫ জন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে এমন অনিয়ম চলে আসছে। নিজেদের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছেন শিক্ষকরা। অথচ নিয়মিত সরকারি বেতন গ্রহণ করছেন তাঁরা

গ্রামবাসীদের বক্তব্য, সরকারি বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পঠনপাঠন না হওয়ায় পড়ুয়াদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে রাজ্য সরকার সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, অন্যদিকে লক্ষ্মীনগর এলপি স্কুলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠছে।

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরে জানানো হলেও আজ পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি বিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে শিক্ষকদের যোগসাজশ থাকার কারণেই অভিযোগের পরও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার না মেলায় এবার সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পঠনপাঠনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক। বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতিও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

এখন প্রশ্ন উঠছে, ৭৩৬ নম্বর লক্ষ্মীনগর এলপি স্কুলে ওঠা এই অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ কবে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের স্বার্থে বিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্ত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পঠনপাঠনের সময়সূচি নিশ্চিত করা হবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *